ইলুমিনাতি কি?

তা আগের পর্বে অনেকটাই বলার চেষ্টা করেছি। তাই ইলুমিনাতি কি তা নিয়ে এখন আর কথা  বলব না চলে যাব সরাসরি “ইলুমিনাতির ইতিহাস” এ পরের অংশে,     ধরা  হয়ে ছিল যে ইউরোপ পর্যন্ত ঠিক ভাবে ছড়াতে পারেনি ইলুমিনাতি ফ্রিমেসন এর আগেই তাদের কে জিম্মি করা হয়। তবে, ১৭৯৮ সালের কিছু আগে জন রবিসন নামে Proofs of a Conspiracy এক বই লিখেন যেখানে দাবি করা হয় ইলুমিনাতি এখনও জোরসে বেঁচে আছে। প্রচুর জনপ্রিয় হয় সে বই এবং আরেকটা বই যেখানে একই দাবি করা হয়। দুটো বই প্রচুর সেল হয়। বইতে বলা হয় অষ্টাদশ শতকের শেষ ভাগের ফ্রেঞ্চ বিপ্লবের পেছনের নাটের গুরু নাকি ইলুমিনাতি।

তো ইলুমিনাতির ইতিহাস অনুযায়ী,

এ বই দুটো সমুদ্র পাড়ি দিয়ে পৌঁছে যায় নতুন আমেরিকাতেও। সেখানে রেভারেন্ড মোর্স ও অন্যান্যরা প্রচার করলেন ইলুমিনাতির বিরুদ্ধে। কিন্তু এই হুজুগ কমে গেল ১৮০০ সালের পর পর। মাঝে মাঝে অবশ্য ফ্রিমেসন-বিরোধী আন্দোলন মাথাচাড়া দিয়ে উঠত বটে।

বর্তমান কালে অবশ্য নানা সংঘই ইলুমিনাতি নাম দিয়ে নিজেদের দাবি করে যে তারাই সত্যিকারের ব্যাভারিয়ান ইলুমিনাতি। তবে তারা কেন যেন আবার গোপনীয়তার ধার ধারে না, যেটা আসলে প্রমাণ করে তারা আসল ইলুমিনাতি নয়। এমনকি তারা নিজেদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট আছে বলেও প্রচার করে ব্যাপার গুলো হাস্যকর।

কথিত ইলুমিনাতি ওয়েবসাইট

এমনকি সুন্দর গ্রাফিক্সসহ বিজ্ঞাপনও আছে তাদেরঃ

বর্তমান এক ডলার নোটে আমেরিকার গ্রেট সিল দেখা যায়, সেখানে পিরামিডের উপর এক চোখ দেখা যায় যার নাম “Eye of Providence” বা “all-seeing eye of God”-

আরো লিখা আছে লাতিনে E pluribus unum (অর্থ ‘Out of many, one’) ও Novus ordo seclorum (যার মানে New order of the ages)। ইলুমিনাতি তত্ত্ববিশ্বাসীগণ মনে করেন, এই এক চোখ প্রমাণ করে আমেরিকা ইলুমিনাতির দখলে আছে। পিরামিডের নিচে লেখা আছে MDCCLXXVI যা মূলত রোমান সংখ্যায় ১৭৭৬। অবাক কাণ্ড, ইলুমিনাতিও ১৭৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত! [অবশ্য, ১৭৭৬ ওখানে লিখা কারণ, ১৭৭৬ সালে আমেরিকা স্বাধীনতা অর্জন করে।]আশ্চর্য করার মত বটে।

এক নজরে দেখে নেয়া যাক কী কী ষড়যন্ত্র তত্ত্ব প্রচলিত আছে ইলুমিনাতির নামে-

১) বিভিন্ন ষড়যন্ত্র তত্ত্ব মতে, সিক্রেট সোসাইটি ইলুমিনাতি মূলত এ বিশ্বের সকল ঐতিহাসিক ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করে।

২) ফ্রেঞ্চ বিপ্লবের সূচনাও ইলুমাতির হাতেই হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

৩) নেপোলিয়নের ওয়াটারলু যুদ্ধের ফলাফল নির্ধারণ করে ইলুমিনাতি।

৪) আমেরিকান প্রেসিডেন্ট কেনেডির গুপ্তহত্যা আসলে ইলুমিনাতিই করিয়েছে, কারণ তিনি বাধা দিচ্ছিলেন তাদের কাজে।

৫) “নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডার” প্রতিষ্ঠা করা। এই অর্ডারের মাধ্যমে সারা বিশ্ব থাকবে একনায়কের হাতে উরফ ইলুমিনাতির হাতের মুঠোয়। ১৯৯১ সালে নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডারের কথা প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ (সিনিয়র) প্রসিডেন্ট জর্জ বুশ (জুনিয়র)এর বাবা, তার ভাষণে উল্লেখ করবার পর এই নিউ ওয়ার্ল্ড ওর্ডার তত্ত্ব তুমুল জনপ্রিয়তা পায়।

৬) হলিউডের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি ইলুমিনাতির দখলে। এর মাধ্যমে ইলুমিনাতি আপনার অবচেতন মনে তাদের বিশ্বাসগুলো ঢুকিয়ে দিচ্ছে, কিংবা আপনাকে ব্রেইনওয়াশ করছে আর এইটা বৈজ্ঞানিক ভাবে প্রমাণিত।

৭) শয়তানের উপাসনার মাধ্যমে স্বার্থ হাসিল করে ইলুমিনাতি। খ্রিস্টান ও মুসলিম ষড়যন্ত্র তত্ত্বমতে, ইলুমিনাতির এক চোখা প্রতীক প্রমাণ করে যে, ইলুমিনাতি হলো সেই সংঘ যারা একচোখা দাজ্জাল (কিংবা বাইবেল মতে ৬৬৬ বা অ্যান্টিক্রাইস্ট) এর আগমনের পথ সুগম করছে এটা নিতান্ত একটা থিওরি এর সত্যতা অজানা।

৮) বলা হয়, এই ব্যক্তিরাও ইলুমিনাতির সদস্যঃ বারাক ওবামা, পোপ, রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথ, জর্জ ডব্লিউ বুশ, কানিয়ে ওয়েস্ট, বব ডিলান, রিহান্না, বিয়ন্সে, লেডি গাগা, জিম ক্যারি, ম্যাডোনা প্রমুখ।

৯) বব মার্লে, কেনেডি, মাইকেল জ্যাকসন, হিথ লেজার- এদেরকে স্যাক্রিফাইস হিসেবে উৎসর্গ করে ইলুমিনাতি।

১০) সারা পৃথিবী নিয়ন্ত্রণকারী BILDERBERG GROUP এর সাথে ইলুমিনাতির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। [এ গ্রুপ নিয়ে আবার রয়েছে বিশাল থিয়োরি] ১১) ডিজনি কার্টুনের মাধ্যমে ইলুমিনাতি শিশুমনে ইলুমিনাতির বিশ্বাস ঢুকিয়ে দিতে চায়।এর সাথে জুড়ে যায় বহিমীয়ান ক্লাবের নাম। যার ইতিহাস ভয়ংকর।

১২) ইলুমিনাতির বৃহৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ১৯৪৭ সালে একটি ইউএফও ক্র্যাশ করানো হয় আমেরিকার রজওয়েলে, সেখান থেকে চারজন এলিয়েনকে উদ্ধার করা হয়। আমেরিকান মিলিটারির সহায়তায় তারা ব্ল্যাকমেইল করে তাদেরকে বাধ্য করে এলিয়েন প্রযুক্তি বিনিময় করতে। তাছাড়াও কিছু আকার পরিবর্তনে সক্ষম রেপ্টিলিয়ান এলিয়েন দ্বারা তারা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বদল করেছে, যেন তাদের মতই দেখতে এলিয়েনরা কাজ চালিয়ে যায়, যেমন রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথ একজন রেপ্টিলিয়ান এলিয়েন। তাছাড়া উন্নত ক্লোনিং প্রযুক্তির মাধ্যমে আসল ব্যক্তিদের হুবহু ক্লোন বসিয়ে দিয়ে পুরো বিশ্বের দখল নিয়ে নিচ্ছে ইলুমিনাতি।

কোন তত্ত্ব মিস করে গেলে আমাদের জানাতে পারেন।

ড্যান ব্রাউনের বিখ্যাত উপন্যাস ‘অ্যাঞ্জেলস অ্যান্ড ডিমন্স’ মূলত ইলুমিনাতি নিয়ে নতুন করে গণমনে আগ্রহ জাগিয়ে তোলে, যদিও সে বই শেষ পর্যন্ত পাঠককে ইলুমিনাতি বিষয়ে হতাশ করে বসে। বইয়ের উপর করা চলচ্চিত্রে রবার্ট ল্যাংডন চরিত্রে অভিনয় করেন জনপ্রিয় অভিনেতা টম হ্যাঙ্কস।

Angels & Demons ছবির পোস্টার

শত শত বছর ধরে অসংখ্য জল্পনা কল্পনার ইলুমিনাতি কি আসলেই কাজ চালাচ্ছে আড়ালে আবডালে, নাকি এটা কেবল উর্বর মস্তিষ্কের অবিরত কল্পনা? তবে আশা রাখি ইলুমিনাতি কি বা কারা? তা জানাতে পেরেছি।

ইলুমিনাতির ইতিহাস || পর্ব – ১   

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here