• ইলুমিনাতির ইতিহাস || পর্ব – ১

ইলুমিনাতি শব্দটি মূলত এসেছে ল্যাটিন শব্দ “ইলুমিনেতাস” (illuminatus) থেকে,যার অর্থ আলোকিত করা । ইলুমিনাতরা লুসিফার বা ফলেন এঞ্জেলকে আলোর দিশারি মনে করে। (শুক্র গ্রহের আরেক নাম ও লুসিফার)

ইলুমিনাতি গুপ্ত সংগঠনটি লুসিফারের পুজো করে, আবার তারা একচোখ বিশিষ্ট দেবতাকে  ঈশ্বর হিসেবে মানে,এরা একে “অল সিয়িং আই” বলে। তারা বিশ্বাস করে ঐ “এক চোখের” ঈশ্বর বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলে অবস্থান করে বিশ্ব ব্যাপি নজরদারি করছে। তাই তারা তাদের মুল প্রতিক হিসেবে ত্রিভুজ আকৃতি বা পিরামিডের মাথায় এক চোখ ব্যবহার করে।

১৭৭০ সালে ‘এমশেল মেয়ার রথসচাইল্ড’ ইউরোপীয় ব্যাংকার সিন্ডিকেট কে নিয়ে এই সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন। পড়ে ১৭৭৬ সালে এই দলটি অ্যাডাম ওয়েইশপ্ট কে নিয়োগ দেয় দলটি পুনর্গঠিত করতে। ওয়েইশপ্ট দলটিকে একদম নতুন একটি দল হিসেবে প্রকাশ ঘটান । তিনি এর নাম দেন “অর্ডার অফ ইলুমিনাতি”।

ইলুমিনাতি প্রতিষ্ঠাতা 

অ্যাডাম ওয়েইশপ্ট ছিলেন একজন জেসুইট । পরে ব্যাভারিয়ার ইংগোলস্তাদ বিশ্ববিদ্যালয়ে খ্রিষ্টান ধর্মীয় বিষয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। জেসুইটস সম্প্রদায়টি কাল্ট এবং ভারতীয় যোগশাস্ত্র (মূলত ব্লাক ম্যাজিক)চর্চা করত বলে সম্প্রদায়টি ছিল রহস্যময়ী। অনেকের মতে জেসুইটস সম্প্রদায়ের প্রতীক এবং সংকেত পরবর্তী কালে ভাইসার্ট তার প্রতিষ্ঠিত গোষ্ঠীর প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন।

এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাকালীন উদ্দেশ্য ছিল কুসংস্কার, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং ধর্মের প্রভাবের বিরোধিতা বিশেষ করে ইসলাম ও স্বাধীন চিন্তাভাবনার প্রচলন ঘটানো। যা স্বাভাবিক ভাবেই ধর্মপরায়ণদের অপছন্দের কারন হয়ে দাড়ায় ।যার ফলে এই সংগঠন রোমান ক্যাথলিক চার্চ দ্বারা নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়,যার কারনে সংগঠনটি পুরোপুরি ভাবে আন্ডার গ্রাউন্ডে চলে যায়।

তবে পর্দার পেছন থেকে এই সংগঠনটি তাঁর কাজকর্ম শক্তিশালী ভাবে চালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। বলা হয়ে থাকে, এই সংগঠনটির লোক দেখানো উদ্দেশ্য ছাড়াও কিছু গোপন উদ্দেশ্য রয়েছে। তারমধ্যে ‘দ্যা নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডার’ অন্যতম।

এদের উদ্দেশ্য হলো পুরো পৃথিবীকে এক শাসকের অধীনে আনা, এক পৃথিবী-এক জাতি-এক ধর্মর প্রচলন করা। এই উদ্দেশ্যে তারা জন্মলগ্ন থেকেই একটু একটু করে দখল করে নিয়েছে বিশ্বের প্রায় সকল দেশের ঋণ ব্যবস্থাকে। ইলুমিনাতিই কন্ট্রোল করে এই বিশ্বের সব গুরুত্বপুর্ন সিদ্ধান্ত।

ধারণা করা হয়,  সব বড় বড় ঘটনা, যেমন প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, বিশ্বের নানা ধরণের বিপ্লব, ফ্রান্সের বিপ্লব,ওয়াটারলু যুদ্ধ,অর্থনৈতিক মন্দা ইত্যাদি সব কিছুর পেছনেই ইলুমিনাতির হাত আছে।

  ইলুমিনাতির প্রভাব রয়েছে পৃথিবীর সবখানে। মিডিয়া,ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি,সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সবকিছুই এদেরই নিয়ন্ত্রণে । হলিউড বলিউডের বিখ্যাত তারকারও এই গোপন সংগঠনের সদস্য বলে মনে করা হয়।  মুলত ইলুমিনাতই নির্ধারণ করে দেয় আমেরিকায় কে প্রেসিডেন্ট হবে। তাদের পছন্দের ব্যক্তিরাই এযাবতকাল আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হয়ে আসছে।

প্রেসিডেন্ট বুশ, জর্জ ডব্লিউ বুশ, বিল ক্লিনটন, বারাক ওবামা এমনকি বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই ইলুমিনাতের অন্যতম সদস্য বলে ধারণা করা হয়। তারা বিভিন্ন সময় তাদের সাংকেতিক চিহ্ন বা অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে তাদের সদস্যদের জানান দিয়েছে। এসমস্ত প্রেসিডেন্টরা ইলুমিনাতের সিদ্ধান্তের এক চুল বাহিরে কাজ করতে পারে না।

গুরুত্বপুর্ণ তথ্য হলো বারাক ওবামা প্রথম বার নির্বাচিত হওয়ার আগেই ইলুমিনাতি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হিসেবে একটি কার্টুন প্রকাশ করেছিল সেই কার্টুন টি ছিলো ডোনাল্ড ট্রাম্পের, অর্থাৎ তারা দশ বছর আগেই আমেরিকার প্রেসিডেন্ট কে হবে তার নীল নকশা করে রেখেছিল, তারা কোন সিদ্ধান্ত নিলে তা বাস্তবায়নের অনেক আগেই তা সাংকেতিক ভাবে প্রকাশ করে  নিজেদের মাঝে বার্তা পৌছে দেয়।

কন্সপাইরেসি রিসার্চারস গণ এটাও ধারণা করেন যে, পুরো পৃথিবীর ব্যাংকিং ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে এদের নিয়ন্ত্রণে। আর এর কেন্দ্রবিন্দু হল Federal Reserve System ।সবচেয়ে ধনী সেক্রেট সোসাইটি বলা হয় এদেরকে। যার ৯০ শতাংশ ইহুদি নিয়ন্ত্রিত।

ধারণা অনুযায়ী, ইলুমিনাতির সিম্বল দি অল সিয়িং আই

ইলুমিনাটির বাহ্যিক প্রতীক হল The All seeing eye আর ত্রিভুজ। তবে তাদের আভ্যন্তরীণ ও প্রকৃত প্রতীক হল Owl of Minerva। এছাড়াও তারা নিজেদের মধ্যে পরিচিত হতে বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি, চিহ্ন বা সংকেত ব্যবহার করে।

তাদের এমনই এটি সংকেত আমাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তারা সুকৌশলে ভাইরাল করেছে, মুসলিমদের ঈমান নষ্ট করার উদ্দ্যেশ্যে। সাংকেতিক চিহ্নটি হলো LOL এর মুল মিনিং হলোঃ Lusifer Is Our Lord.

প্রশ্ন আসতে পারে কারা এই ইলুমিনাতির সদস্য? কিংবা কারা পরিচালনা করছে এই সংগঠনটি?

রিসার্চারসদের মতে, সংগঠনটি তিনটি স্তরে বিভক্ত ।যথা :

1)The Nursery –

এ স্তরকে নিম্নস্তরও বলা হয়ে থাকে।।নিম্নস্তরের সদস্য বলতে ধনী ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন দেশের গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন ব্যক্তিত্ববর্গকে বোঝায়।সমাজের সর্বস্তরে এরা ছড়িয়ে আছে।

2) Masonic Grades –

এ স্তরের সবাই ফ্রিম্যাসন।পুরো ফ্রিম্যাসন সোসাইটিই এ স্তরে আছে।

3)The Mysteries –

এটা সংগঠনটির উচ্চস্তর। এদেরকে রহস্য বলা হয় কারণ নিম্নস্তরের কেউই জানেনা উচ্চস্তরে কে আছে। অথচ উচ্চস্তরের সদস্যরা নিম্নস্তরের সদস্যদের সম্পর্কে সবকিছুই জানে। ধারনা করা হয় এ স্তরে আছেন বিভিন্নদেশের প্রেসিডেন্ট,ইউএস মিলিটারির জেনারেল, ইহুদি প্রধান এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তা।

বাকি তথ্য পাবেন দ্বিতীয় অংশে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here