প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়ে বেশ কিছু শহর, সভ্যতা বিলুপ্ত। সেই রকমই একটি শহর বা সভতার মধ্যে অন্যতম হল আটলান্টিস।হারিয়ে যাওয়া শহর, যার ব্যাপারে শুধু আমরা শুনে এসেছি। কিন্তু কোথায় ছিল, কী রকম ছিল সেই শহর তাঁর কোনও প্রমাণ নেই। অজানা সেই শহরের বিষয়ে কিছু তথ্য দেখে নেওয়া যাক।

পৃথিবীর বুকে বেশ কিছু রহস্য আছে যার আজ পর্যন্ত কোনও রকম উত্তর মেলেনি। মানব জাতির উন্নতির পর বেশ কিছু সভ্যতার উন্মেষ হয় যার ব্যাপারে আমরা ইতিহাসে পড়ে এসেছি। তাদের মধ্যে এমন কিছু সভ্যতা বা শহর আছে যার ব্যাপারে আমরা শুনলেও স্বপক্ষে প্রমাণ কিছুই মেলেনি। তাদের মধ্যে অন্যতম হল আটলান্টিসের হারিয়ে যাওয়া শহর।

আটলান্টিসের হারিয়ে যাওয়া শহর পৃথিবীর সবচেয়ে পুরনো এবং রহস্যজনক শহরগুলির মধ্যে অন্যতম। প্রাচীনকাল থেকেই গবেষকরা এই শহর কোথায় অবস্থিত ছিল এবং কিভাবে তা ধ্বংসের পথে চলে যায় তা জানার চেষ্টা করে এসেছে। অনেকের মতেই বড় কোনও ভূমিকম্প বা সুনামির কারণে এই শহর ধ্বংসের পথে চলে যায়

আটলান্টিসেন প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় খৃষ্টপূর্ব ৩৬০ অব্দের প্লেটোর ডায়ালগ টাইমাউস এন্ড ক্রিটিয়াসে। প্লেটোর মতে প্রায় ৯০০০ বছর আগে আটলান্টিস ছিল হারকিউলিস পিলারের পাদদেশে একটি দ্বীপ যা এর নৌ-সক্ষমতা দিয়ে ইউরোপের অধিকাংশ স্থান জয় করেছিল। কিন্তু এথেন্স জয় করার একটি ব্যর্থ প্রয়াসের পর এক দিন ও এক রাতের প্রলয়ে এটি সমুদ্রগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। মনে করা এই শহরটি আমাদের এশিয়া মহাদেশের থেকেও বড়।

বহু মানুষের মতে অ্যাটলান্টিস নামটি আটলান্টিক মহাসাগরের নাম থেকে এসেছে। কিন্তু প্লেটোর লেখনী অনুযায়ী, গ্রিসের সমুদ্রের ভগবান পোসাইডনের প্রথম সন্তান অ্যাটলাসের নাম থেকে এই শহরের নামকরণ করা হয়।

প্লেটোর এই ঘটনা কোন পৌরাণিক কল্পকাহিনী অণুপ্রানিত কি না এ ব্যাপারে ইতিহাসবিদরা এখনও একমত হতে পারে নি। তবে প্লেটোর ক্রিটিয়াসে দাবি করেন যে তিনি এই গল্প সোলোনের কাছ থেকে শুনেছেন। সোলোন ছিলেন খৃষ্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকের এথেন্সের বিখ্যাত নীতিনির্ধারক। প্রাচীন মিশর প্যাপিরাসের কাগজে এথেন্স এবং আটলান্টিস সম্পর্কে হায়ারোগ্লিফিতে কিছু নথি ছিল যা গ্রিকে অনুবাদ করা হয়। সোলোন সেখান থেকে আটলান্টিস সম্পর্কে জানতে পারেন। তবে কিছু পণ্ডিত মনে করেন যে প্লেটো প্রাচীন কিছু যুদ্ধের কাহিনী থেকে অনুপ্রানীত হয়ে এই কাহিনী গড়েছেন।

আটলান্টিসের সম্ভাব্য অস্তিত্ব নিয়ে প্রাচীনকালে অনেক বিতর্ক হয়েছে তবে পরবর্তীতে বিভিন্ন লেখক এর সমালোচনা এবং ব্যাঙ্গ-বিদ্রুপ করেছেন। এলেন ক্যামেরুনের বলেন প্রাচীনকালে আটলান্টিসের ঘটনাকে কেউ এত গুরুত্বের সাথে না নিলেও বর্তমানেই এই প্রাচীন কাহিনীকে গম্ভীরভাবে দেখা হচ্ছে।

আটলান্টিস শহরটি একটি দ্বীপ থেকে শাসিত সাম্রাজ্য ছিল, যা বর্তমান যুগে ইউরোপের টাস্কানি শহর থেকে আফ্রিকার মিশর শহর পর্যন্ত তাদের সাম্রাজ্য সম্প্রসারিত করেছিল। বলা হয়ে থাকে এই শহরটিতে সুন্দর নাগরিকের পাশাপাশি, একটি পোসেইডনের মন্দির এবং কঙ্ক্রিটের প্রাচীরের পাশাপাশি জল যাতায়াতের জন্য খালের সুব্যাবস্থা ছিল।

প্লেটো আটলান্টিসের উপর দুটি বই লিখেছিলেন যার মধ্যে টিমেয়াসের পুরো বইটি থাকলেও, ক্রিটিয়াসের পুরো কপি পাওয়া যায়নি। ফলে এই শহরের বিষয়ে বেশ কিছু তথ্য অজানা রয়ে গিয়েছে। যদিও বলা হয়ে থাকে প্লেটো আটলান্টিসের উপর আরও একটি বই লিখেছিলেন যার নাম হের্মোক্রেতস।

যদিও এই শহরটি আসলেই কিরকম ছিল এবং কিভাবে তা ধ্বংসের পথে এগিয়ে গেলো তা নিয়ে বরাবর আমাদের মনে বিস্ময় থেকেই যায়। আচ্ছা দেখুন তো যদি এই ঘটনাটি সত্যি হয়ে থাকে তাহলে চিন্তা করেন কত বড় একটা রাজ্য পানির নিচে রয়েছে।

Digbijoy
Hey I am digbijoy, I am a photographer, kind of graphic designer and take interest in reading books and writing, Also a part of a educational platform named Lipikoron. ❤

3 COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here