মা
~সুব্রত দাস

আমার প্রতিটা কাজেই তোমায় চাই
শুধুই তোমায় চাই
পড়াশোনায় তোমায় চাই
খেলাধুলাতে তোমায় চাই
খাওয়ার সময় সে ও তোমায় চাই
তুমি ছাড়া কিছু হবে কি আমার?
তবে কেন হারিয়ে গেলে তুমি??
কত চিঠি লিখলাম তোমায় ওই দূর আকাশের ঠিকানায়
সবাই বলে তুমি নাকি লুকিয়ে আছো ওই দূর আকাশের তারা হয়ে,
তবে উত্তর কেন দিলে না, বলতে পারো তুমি?
যাও তোমার সাথে আঁড়ি কথা বলব না আর
আমার বুঝি মন খারাপ হয় না?
তুমি না মা আকাশের তারা হয়ে বেশ দুষ্টু হয়ে গেছো, তুমি না আমার লক্ষ্মী মা
মনে পড়ে কি তোমার সে দিন গুলো তুমি আর আমি সারাক্ষণ বাড়ি মাতিয়ে রাখতাম
আনন্দের এতটুকু কমতি ছিলো না তখন।
হঠাৎ কেন যে তুমি আকাশের তারা হতে গেলে সে উত্তর আজও বাবা দিতে পারে নি
যত বার এই প্রশ্ন টা আমি বাবাকে করেছি ঠিক তত বার উত্তরে মিলেছে,
ঈশ্বর ভালো মানুষ দের আমাদের কাছে খুব বেশি দিন রাখে না
যদি তারা আমাদের মতো দুষ্টু হয়ে যায় তাই বলে।
দেখতাম আমি লুকিয়ে লুকিয়ে আঁড়ালে তোমার ছবির পাশে দাঁড়িয়ে
বাবা নামের কঠিন মানুষ টি ও অঝরে কেঁদে চলেছেন
হঠাৎ আমি চলে আসায় বাবা মুখ লুকিয়ে বলল কিরে খোকা এখনো ঘুমাসনি তুই?
বাবা তুমি কাঁদছো কেন? কি হয়েছে তোমার?

ধুর বোকা বাবারা কি কখনো কাঁদে নাকি? এই দেখনা হঠাৎ করে কি যেন একটা চোখে পড়ে গেল আর চোখ দিয়ে জল পড়ছে।
বোকা ছেলে তুই ভেবেছিস বাবা কান্না করছে যা
অনেক রাত হয়েছে ঘুমিয়ে পড়।

সারাদিন স্কুল আর হোমওয়ার্ক নিয়ে নিজেকে ব্যস্ত রাখলেও
প্রতিটা দিনের রাত যে আমার কাছে বড্ড বেশি ভয়ের।
ঘুম আসে না কিছুতেই না।। মনে পড়ে শুধু তোমায়
তোমার কোলে মাথা রেখে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়ার দিন গুলো!
এই ভাবতে ভাবতে কখন যে ঘুম এসে যায় নিজেই জানি না।
মাঝ রাতে হঠাৎ যখন লোডশেডিং হয়
গরমে ঘেমে নেয়ে জেগে উঠি আমি……
ভয়েতে মরে যাই যে আমি, কি অদ্ভুত ঘুট ঘুটে অন্ধকার।
দেখি আমি আমার সমস্ত শরীর ভেজা!
কেই বা করবে পাখার হাওয়া, মুছে দেবে শরীরের ঘাম শাড়ির আঁচল দিয়ে তুমিই তো নেই।

হঠাৎ করেই চোখ গেল জানলার দিকে দেখলাম আকাশে তারা উঠেছে,

আকাশের সবচেয়ে বড় তারা টা জ্বলজ্বল করছে মন ভেবে নিল এটাই বুঝি মা।
আমায় দেখছে আর মিটিমিটি করে হাসছে মা।
কিরে খোকা আমায় ছাড়া কেমন আছিস তোরা
যাও তোমার সাথে কথা বলব না আঁড়ি
কেন রে?
কে বলেছিল তোমায় এত ভালো মানুষ হতে? তাই তো
তোমায় ঈশ্বর নিয়ে গেল আমাদের থেকে! নইলে তুমি আমার কাছেই থাকতে।

কত দিন খাই নি আমি তোমার হাতের রান্না
আমার পেট যে এখনো ভরে নি মা,
বাবা কতবার চেষ্টা করেছে তোমার মত রাঁধতে কিন্তু পারে নি
কত বার হাত যে পুড়িয়েছে হিসাব নেই।
পোড়া ভাত আর আলু সেদ্ধ
এই খেয়েই দিন পার করছি আমরা

এসো না মা আর একটা বার ফিরে কথা দিচ্ছি দুষ্টুমী করবো না।
লক্ষী ছেলেটি হয়ে থাকব।
তোমার হাতের রান্না খাবো আর তোমার কোলে মাথা রেখে সেই ঘুমিয়ে পড়ব আগের মত…..
কত রাত কত দিন যে ঘুমাইনি আমি, কেউ না জানে শুধু
তা জানো শুধুই তুমি মা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here