আজ ২৯ সেপ্টেম্বর, বিশ্ব হার্ট দিবস!
হার্ট হচ্ছে শরীরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ, এইটা আমাদের দেহে রক্ত সরবরাহের কাজ করে। বিশ্বতে মৃত্যুর হারের অন্যতম প্রধান এক কারন হচ্ছে হৃদরোগজনিত সমস্যা যার মধ্যে হার্ট অ্যাটাক অন্যতম। World Heart Federation এর মতে, কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজের অনেকগুলো কারণের মধ্যে ধূমপান, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ এবং স্থূলতা থেকে শুরু করে বায়ু দূষণ এবং চাগাস ডিজিজ এবং কার্ডিয়াক অ্যামাইলয়েডোসিসের মতো বিরল অবস্থাও বিদ্যমান। প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী যে ১৭.৯ মিলিয়ন মানুষ মারা যান তার ৮০% মারা যান করোনারি হার্ট ডিজিজ যেমন: হার্ট এটাকে এবং সেরেব্রো ভাস্কুলার ডিজিজ যেমন স্ট্রোকে।
বর্তমানে চলমান মহামারী কোভিড -১৯ এর সময় সব থেকে বেশি সমস্যাতে আছেন হার্টের রোগীরা। তারা বর্তমানে দুই দিক থেকে আতঙ্কে আছেন। এক হচ্ছে এই ভাইরাসের মারাত্মক ঝুকি আর দ্বিতীয় হচ্ছে হার্টের চিকিৎসা। এই ভাইরাস মানুষের শরীরে সক্রিয় হওয়ার পর থেকে শরীরের যেকোনো অঙ্গ- প্রত্যঙ্গকে আক্রান্ত করে এবং মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ায়, আর এখন সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির বিষয় হয়ে দাঁড়াচ্ছে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটানো বা বন্ধ করে দিয়ে মানুষকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া। বিশ্বের বাকি সব দেশের মত এই সমস্যা বাংলাদেশেও প্রকট হয়ে দেখা দিয়েছে। নানা ধরনের হার্ট ডিজিজ রয়েছে, যেমনঃ
মায়োকার্ডাইটিস,পেরিকার্ডাইটিস,এন্ডোকার্ডাইটিস, করোনারি হার্ট ডিজিস, এনজাইনা,মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন সহ আরো অনেক কিছু।
সারাবিশ্বে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতি বছর প্রায় ২ কোটি লোক মৃত্যুবরণ করেন। যার বেশির ভাগই নিম্ন ও মধ্যবিত্ত। একবার হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হলে প্রায় শতকরা ৪০ ভাগ রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার আগেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। কিন্তু হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীকে সময়মতো হাসপাতালে স্থানান্তর করতে পারলে আধুনিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে সুস্থ করা সম্ভব। কিন্তু পূর্বে হৃদরোগ শনাক্ত করা না গেলে অনেক ক্ষেত্রেই চিকিৎসা দেয়ার পূর্বেই রোগীর মৃত্যু ঘটে। তাই প্রতিরোধটাই সবচেয়ে জরুরী।

আমাদের বক্ষপিঞ্জরের ভেতর যে মসৃণ পেশির অঙ্গটি ছান্দিক সংকোচনের মাধ্যমে আমাদের সারা শরীরে রক্ত সঞ্চালন করে চলেছে, সেটাই হার্ট বা হৃৎপিণ্ড।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কেন বলছি আমরা একে?
কারণ রক্ত সঞ্চালনের মাধ্যমে শরীরের প্রতিটি কোষে অক্সিজেন ও খাবার পৌঁছে দেবার মাধ্যমে বাঁচিয়ে রাখার কাজটি অবিরাম করে চলে এ যন্ত্রটি! তাও যেমন তেমন নয়, একেবার মায়ের গর্ভে থাকার সময় থেকে মৃত্যুর মুহূর্ত পর্যন্ত! ঠিক এ কারণেই হার্টের কর্মক্ষমতার ওপর বেঁচে থাকা, শক্তি, শারীরিক কর্মক্ষমতা, আবেগ অনুভূতি বলতে গেলে জীবনের সবকিছুই নির্ভরশীল। তাই হার্ট ভালো থাকলে একজন মানুষ ভালো থাকবে, হার্ট কার্যক্ষম থাকলে মানুষটিও শক্তিশালী কার্যক্ষম থাকবে। অন্য যেকোনো অঙ্গ অকেজো বা নষ্ট হয়ে গেলে শুধু ওই অঙ্গের কার্যের ব্যাঘাত ঘটে, কার্যক্ষমতা লোপ পায়। কিন্তু হৃদপিণ্ড নষ্ট বা বন্ধ হয়ে গেলে মানুষ মারা যায়। বলা বাহুল্য, বিশ্বের এক নম্বর মরণব্যাধি হৃদরোগ, কোনো রকম পূর্বাভাস ছাড়াই হৃদরোগ যেকোনো সময় কেড়ে নেয় জীবন।

প্রবাদ আছে, ‘প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম’। তাহলে হার্ট কেমন করে ভালো রাখতে পারি আমরা? উপায়গুলো কিন্তু খুবই সহজ। চলুন জেনে আসি।
১. নিয়মিত ব্যায়াম
২. স্বাস্থ্যকর খাবারের অভ্যাস
৩. ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ
৪. উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ
৫. ধূমপান ও মদ্যপান বর্জন
৬. অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা হ্রাস
৭. মানসিক ও শারীরিক চাপ সামলাতে হবে
অতিরিক্ত রাগ, উত্তেজনা, ভীতি এবং মানসিক চাপ হার্টের জন্য খারাপ। নিয়মিত বিশ্রাম, সময় মতো ঘুমানো, শরীরকে অতিরিক্ত ক্লান্তি থেকে বিশ্রাম দিতে হবে। নিজের শখের কাজ করা, নিজ ধর্মের চর্চা করা, খেলাধুলা, আড্ডা, বইপড়া, যোগব্যায়াম ও ধ্যান হতে পারে চাপ মুক্তির উত্তম উপায়। সবচেয়ে ভালো হয় পরিবার কিংবা কর্মক্ষেত্রে চমৎকার সামাজিক বন্ধন গড়ে তোলা। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ১৯৮০ সালের তুলনায় দ্বিগুণ পরিমাণ একাকিত্ব বোধ করেন এখনকার মানুষ। অর্থাৎ ১৯৮০ সালে এ হার ছিল ২০ শতাংশ, এখন ৪০ শতাংশ। একাকিত্ব শুধু মানসিক ক্ষতি করে না, শারীরিক ক্ষতিও করে থাকে। চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, কেউ যখন কারও সঙ্গে কথা বলে, তখন হরমোন নিঃসরণের মাধ্যমে মস্তিষ্ক হৃৎপিণ্ডের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে। এতে হৃৎপিণ্ডের কার্যক্রম দারুণ সচল হয়ে ওঠে। তাই এটাই হতে পারে আমাদের স্লোগান, “সবাই মিলে ভালো থাকি। হৃদয় ভালো রাখি।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here