“মানুষ বাঁচে তার কর্মে,বয়সের মধ্যে নয়”- এই কথার প্রমাণ হিসেবে অনেক ক্ষণজন্মা সফল মানুষ আমাদের চারপাশে রয়েছেন । তাদের মধ্যে একজন হচ্ছেন ৯০ দশকের ঢাকাই চলচিত্রের খ্যাতনামা নায়ক সালমান শাহ, তখনকার সময়ে নাকি ঢাকার হলগুলোতে সালমান শাহের ছবিতে উপচে পড়া ভিড় থাকত দর্শকদের, হলে চলতও তারই ছবি।
তার দুনিয়ায় বেঁচে থাকার দিন যেমন বেশি দিনের ছিল না, তেমনি তার চলচিত্রের ক্যারিয়ারও বেশি লম্বা ছিল না। কিন্তু এই অল্প দিনের জীবনেই তিনি অর্জন করেছেন সম্মান, খ্যাতি আর সকলের ভালবাসা। তিনি সকলের “অন্তরে অন্তরে” পৌঁছে গিয়েছিলেন ক্যারিয়ারের শুরুর দিকেই।
তার প্রথম অভিনীত “কেয়ামত থেকে কেয়ামত” ছবি দিয়েই দর্শকের ভালবাসা আদায় করে নিয়েছিলেন। তার “স্বপ্নের নায়ক” চলচিত্রের মতো বাস্তবেও ছিলেন তরুণীদের স্বপ্নের নায়ক; অভিনয় দক্ষতা, পোশাকের নতুনত্বতা আর আধুনিকতার কারণে।
১৯৯৩ সালে চলচিত্রে পা রেখে সকলের ভালবাসা আর আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা অর্জন করে ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তিনি চলে গেছেন না ফিরার দেশে, যেখানে কোন ভক্তের ঢাক তার কানে আর কোনদিন পৌঁছাবে না। সালমান শাহের ঠিকানা এখন শুধুই আকাশ, তাকে ভালবাসার কথা এখন শুধু আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখেই জানাতে হবে।
কিন্তু তার এই সালমান শাহ নামের বাইরেও তার একটা পরিচয় ছিল, একটা অন্য নাম ছিল। তিনি ছিলেন বাবা কমর উদ্দিন চৌধুরী ও মা নীলা চৌধুরীর ছেলে শাহরিয়ার চৌধুরী ইমন, জন্ম হয়েছিল সিলেটে, সন ১৯৭১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর।
এতগুলো বছর না থেকেও সত্যিই যেনো কোটি কোটি মানুষের ভালোবাসা নিয়ে আজও রয়ে গেছেন ঢাকাই সিনেমার এই জনপ্রিয় নায়ক। নতুন প্রজন্ম তাকে মনে রেখেছে। নতুন প্রজন্ম তার সিনেমা এখনো আগ্রহ নিয়ে দেখে। ছোট-বড় সবার হৃদয়ে তাই আজও সালমান শাহ আছেন প্রিয় নায়ক হিসেবে।
কিন্তু আজ থেকে ২৪ বছর আগে চলচিত্র অঙ্গনে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছিল সালমান শাহের মৃত্যুর কারণে, তার আসল কারণ কী ছিলো তা ক্যালেন্ডারের পাতায় ২৪ বছর যোগ হলেও জানা যায়নি। কী হয়েছিল সেদিন? সকলের ভালবাসার সালমান কি সেদিন তার মনের ভেতরে সকলের অগোচোরে লুকিয়ে রাখা কষ্ট আর সইতে না পেরে আত্মহত্যা করেছিলেন নাকি তাকে কেউ এই দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিয়েছিলেন? দুই যুগেও মেলেনি উত্তর।
যদিও তিনি মৃত্যু সময়ে একটা সুইসাইড নোট লিখে গিয়েছিলেন, যেখানে লেখা ছিল,আমি চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার, পিতা-কমর উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, ১৪৬/৫, গ্রিন রোড, ঢাকা-১২১৫ ওরফে সালমান শাহ এই মর্মে অঙ্গীকার করছি যে, আজ অথবা আজকের পরে যেকোনো দিন মৃত্যু হলে তার জন্য কেউ দায়ী থাকবে না। স্বেচ্ছায়, সজ্ঞানে, সুস্থ মস্তিষ্কে আমি আত্মহত্যা করছি।
কিন্তু তিনি আত্মহত্যা করেছেন এই কথা মানতে নারাজ তার পরিবার, বিশেষ করে উনার মা নীলা চৌধুরী। তিনি বারবার অভিযোগ করেই গেছেন যে সালমান শাহকে খুন করা হয়েছে।
আজ সেই চিরসবুজ নায়ক সালমান শাহের প্রয়াণ দিবস, ঢাকাই চলচিত্রের অপূরণীয় ক্ষতির দিন। ২৮ বছরেও পূরণ হয়নি সালমান শাহের অভাব।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here