হুমায়ূন আহমেদকে আমরা সবাই চিনি নন্দিত কথা সাহিত্যিক হিসেবে। কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের লেখা গল্প, উপন্যাস কিংবা আত্মজীবনী যাই বলুন না কেন- তা লুফে নিয়েছে বাংলার পাঠক সমাজ।
নন্দিত এই লেখকের জন্ম হয়েছিল ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর। তার বাবা তার পিতা শহীদ ফয়জুর রহমান আহমদ এবং মা আয়েশা ফয়েজ। পিতা একজন পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন এবং তিনি ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তৎকালীন পিরোজপুর মহকুমার উপ-বিভাগীয় পুলিশ অফিসার (এসডিপিও) হিসেবে কর্তব্যরত অবস্থায় শহীদ হন।
লেখকের মৃত্যু হয়েছে ২০১২ সালের ১৯ জুলাই নিউইয়র্কের বেলেভ্যু হাসপাতালে এবং তাকে গাজীপুরের নুহাশপল্লীতে দাফন করা হয়েছে।
কথা সাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদকে নিয়ে কিছু কথাঃ
🚩
১।হুমায়ূন আহমেদের সৃষ্ট চারটি বিখ্যাত চরিত্র হচ্ছেঃ হিমু, মিসির আলী, শুভ্র এবং বাকের ভাই। তার তৈরি চরিত্রগুলোর মধ্যে ‘মিসির আলী’ ছিল তার নিজের কাছে সবচেয়ে প্রিয়।
🚩
২। হুমায়ূন আহমেদ মনে করতেন ‘নন্দিত নরকে’ তার এক্সপেরিমেন্টাল কাজ। তার লেখা উৎকৃষ্ট উপন্যাস ‘জোছনা ও জননীর গল্প’।
🚩
৩। হুমায়ূন আহমেদ জোরে জোরে কবিতা আবৃত্তি করতে ভালোবাসতেন। আবৃত্তির ক্ষেত্রে তার প্রিয় কবিতা ছিল জীবনানন্দ দাশের ‘ক্যাম্পে’ এবং রবার্ট ফ্রস্টের ‘স্টপিং বাই উডস অন আ স্নোয়ি ইভনিং’।
🚩
৪। হুমায়ূন আহমেদ সবসময় ফুল হাতা শার্ট পরে ঘুমাতে যেতেন। ঘুমানোর পোশাক হিসেবে হুমায়ূনের পছন্দ ছিল নতুন শার্ট। নতুন শার্ট না থাকলে লন্ড্রি থেকে ইস্ত্রী করা পাটভাঙা শার্ট পরে ঘুমানো ছিল তার অভ্যাস।
🚩
৫। নব্বইয়ের দশকের শেষদিকে মুক্তি ক্লিনিকে হুমায়ূন আহমেদকে প্রচুর যেতে হয়েছে। ছিয়ানব্বই থেকে নিরানব্বইতে, প্রায়ই রোগিদের কাউন্সিলিং করতে তার যেতে হতো। হিমু হয়ে গেছে- এমন মানুষদের ওই হাসপাতালে এনে ভর্তি করানো হতো।
🚩
৬। হুমায়ূন আহমেদের প্রকাশকরা হিসাব করে বের করেছেন, হুমায়ূন আহমেদের প্রকাশিত এক একটা শব্দের বিক্রয়মূল্য পাঁচ হাজার পাঁচশ টাকা।
🚩
৭। আশির দশকে বাংলাদেশ টেলিভিশনের জন্য নাটক রচনা শুরু করেন তিনি। এটি তাকে রাতারাতি জনপ্রিয় করে তোলে। তার অন্যতম ধারাবাহিক নাটক– এইসব দিনরাত্রি, বহুব্রীহি, কোথাও কেউ নেই, আজ রবিবার ইত্যাদি।
🚩
৮। হুমায়ূন আহমেদ নব্বইয়ের দশকের গোড়ার দিকে চলচ্চিত্র জগতে পা রাখেন। শ্যামল ছায়া চলচ্চিত্রটি তিনি নির্মাণ করেছেন ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে। এটি অস্কার প্রদর্শনীর জন্য মনোনীত হয়।
🚩
৯। মৃত্যুর আগে লেখকের শেষ তিন ইচ্ছেঃ
প্রথম ইচ্ছা- অ্যাস্টোরিয়াতে একটা সি-ফুড রেস্তোরায় সবাইকে নিয়ে লাঞ্চ করবেন।
আরেকটি হল- পিআর সেভেন্টিন বলে একটা ওপেন ফুডকোর্ট আছে যেখানে তিনি বাচ্চাদের নিয়ে যেতে খুব পছন্দ করতেন। সেখানে বাচ্চাদের নিয়ে যাবেন তিনি।
আর তৃতীয় ইচ্ছা- স্ত্রীকে নিয়ে ক্যান্ডেল লাইট ডিনারে যাবেন এবং সেখানে থাকবেন কেবল তারা দুজন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here