মুসলমানদের কাছে সবচেয়ে পবিত্র স্থান হচ্ছে মসজিদ। মসজিদকে আল্লাহর ঘরও বলা হয়। মসজিদে মুসল্লিরা দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ এবং সাথে কুরআন তেলোয়াত করে থাকেন। মসজিদে সকলের সঙ্গে একসাথে নামাজ পড়লে বেশি সওয়াব আদায় করা সম্ভব। মুসলিম উম্মাহর এই পবিত্র ঘর মসজিদ নিয়ে আজকের লেখাঃ
বিশ্বের সেরা মসজিদের তালিকায় সবার আগে আসে মসজিদ আল হারামের নাম। তারপরেই আসে মসজিদে নববী। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ দুই মসজিদ।
মসজিদ আল হারামঃ
সৌদি আরবের মক্কা শহরে এর অবস্থান। ইসলামের সবচেয়ে পবিত্র স্থান, যা কাবাকে ঘিরে অবস্থিত। বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে দামি স্থাপনাগুলোর মধ্যে এ মসজিদ আল হারাম অন্যতম। ভেতরে ও বাইরের নামাজের স্থান মিলে মসজিদের বর্তমান কাঠামো প্রায় তিন লাখ ৫৬ হাজার ৮০০ বর্গমিটার (৮৮.২ একর)।
হজের সময় এখানে উপস্থিত হওয়া মানুষের জমায়েত পৃথিবীর বৃহত্তম মানব সমাবেশের অন্যতম। নয়টি সুন্দর ও সুউচ্চ মিনার মসজিদ আল হারাম’কে অনন্য দৃষ্টিনন্দন করে তুলেছে। মসজিদ আল-হারামের ৮১টি দরজা রয়েছে। যার প্রত্যেকটি সবসময় উন্মুক্ত থাকে।
হোমস অ্যান্ড প্রোপার্টি মসজিদ আল হারামের স্থাপনার নির্মাণ ব্যয় নির্ধারণ করেছে ৭৫ বিলিয়ন ইউরো (১০০ বিলিয়ন ডলার)। যা মসজিদে হারামকে দামি স্থাপনাগুলোর শীর্ষে নিয়ে এসেছে।
বর্তমানে সারা বিশ্বের মুসলমানরা এ কাবাঘর বা মসজিদ আল হারামের দিকে মুখ করে সালাত আদায় করে এবং এটি কুরআনের নির্দেশই। এছাড়া এ ঘর পর্যন্ত পৌঁছান যার সামর্থ্য রয়েছে তার জন্য হজ করাও অবশ্য কর্তব্য করা হয়েছে কুরআনে।
ইসলামের সবচেয়ে পবিত্র স্থান বর্তমানে মসজিদ আল হারাম বা কাবাঘর এবং এর সংলগ্ন চত্বর। জমজম কূপ, সাফা ও মারওয়া পাহাড়, হাজরে আসওয়াদ, মাকামে ইব্রাহিমের মতো আরও অনেক নিদর্শন এখনও বিদ্যমান রয়েছে মসজিদ আল হারামের চত্বরে।
মসজিদে নববীঃ
গুরুত্বের দিক থেকে মসজিদুল হারামের পর মসজিদে নববীর স্থান। রাসুল (সা.) মদিনায় হিজরত করার পর মসজিদে নববীকে কেন্দ্র করেই বিকশিত হয়েছিল ইতিহাসের প্রথম মুসলিম সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থা।
মহানবী (সা.) এর সার্বিক তত্ত্বাবধান ও অংশগ্রহণে ঐতিহাসিক এই মসজিদ গড়ে ওঠে। এখানে অবস্থিত সবুজ গম্বুজটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি আয়েশা (রা.) এর বাড়ি ছিল। এখানে মুহাম্মদ (সা.) এবং তাঁর পরবর্তী শাসক দুজন খলিফাকে দাফন করা হয়।
১২৭৯ খ্রিস্টাব্দে কবরের ওপর একটি কাঠের গম্বুজ নির্মিত হয়। এটি পরবর্তী সময় ১৫০০ শতাব্দীতে কয়েকবার এবং ১৮১৭ খ্রিস্টাব্দে একবার পুনর্নির্মাণ ও সৌন্দর্যবর্ধিত করা হয়। ১৮৩৭ খ্রিস্টাব্দে প্রথম সবুজ রং করা হয়, ফলে এর নাম সবুজ গম্বুজ হয়েছে।
সাহাবীদের দ্বীন শেখানো থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সব কাজ তিনি মসজিদে নববীতে বসেই আঞ্জাম দিতেন। সাহাবীরা এখানেই তার কাছে কুরআন শিখতেন। আবার এর প্রাঙ্গণে হতো যুদ্ধের প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতি সভা।
মদিনায় হিজরত করার পর কুবা এলাকায় যাত্রাবিরতি দেন রাসুলে আকরাম (সা.)। সেখানে চার দিন অবস্থানকালে একটি মসজিদও নির্মাণ করেন। কুবা থেকে বিদায় নিয়ে তিনি বর্তমান মসজিদে নববীর এলাকায় এসে স্থায়ী হন এবং মসজিদ নির্মাণ করেন।
রাসুলে আকরাম (সা.) এর হাতে মসজিদে নববীর প্রতিষ্ঠা হলেও যুগে যুগে বহু সংস্কার ও সম্প্রসারণ হয়েছে এই মসজিদের। ফলে প্রতিষ্ঠাকালীন আয়তন এক হাজার ৫০ বর্গ মিটার থেকে বেড়ে বর্তমানে দুই লাখ ৩৫ হাজার বর্গ মিটারে দাঁড়িয়েছে।
সপ্তম হিজরিতে মসজিদে নববীর প্রথম সম্প্রসারণ রাসুল (সা.)-ই করেন। তখন আয়তন বেড়ে হয় দুই হাজার ৪৭৫ বর্গ মিটার। এরপর ওমর বিন খাত্তাব (রা.) (১৭ হিজরি) থেকে শুরু করে বাদশাহ ফাহাদ বিন আবদুল আজিজ (১৪১৪ হিজরি) পর্যন্ত মোট আটবার মসজিদে নববীর সংস্কার ও সম্প্রসারণ হয়েছে।
৯১ হিজরিতে ওমর বিন আবদুল আজিজ (রহ.) খলিফা ওয়ালিদ বিন আবদুল মালেকের নির্দেশে মসজিদে নববীর সম্প্রসারণ করেন। এ সময় হজরত আয়েশা (রা.) এর কক্ষটি মসজিদে নববীর অন্তর্ভুক্ত করেন এবং তার ওপর নয়নাভিরাম সবুজ গম্বুজ স্থাপন করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here