আসসালামু আলাইকুম

আল্লাহর রহমতে আজ দেশের আকাশে পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা গিয়েছে ।

রমজানুল মোবারক ।

খোশ আমদেদ মাহে রমজান ।

 

রমজান

পবিত্র রমজান সম্পর্কে কিছু কথা:

‘সাওম’ আরবী শব্দ ; যার অর্থ কোনো কিছু থেকে বিরত থাকা , এর বহুবচন হলো ‘সিয়াম’। ইসলামী পরিভাষায় সুবহে সাদিক হতে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সকল প্রকার পানাহার এবং ইন্দ্রিয় তৃপ্তি হতে বিরত থেকে নিয়ম মেনে সেহেরী ও ইফতারের মাধ্যমে আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টি অর্জনকেই সাওম বা রোজা বলা হয় । দীর্ঘ এক মাস এই রোজা পালনকে আল্লাহ তায়ালা আমাদের উপর ফরয করেছেন । বস্তুত বিভিন্ন গরীব-দুঃখী মানুষ ; যারা ঠিকমত এক বেলা খেতেও পায় না , তাদের অনাহারে থাকার কষ্ট ও যন্ত্রণা উপলব্ধি করাতে আল্লাহ তায়ালা আমাদের উপর পবিত্র রমজানের এই এক মাসের রোজা ফরয করেছেন । পবিত্র এই রমজান মাসে মহান আল্লাহ আমাদের জন্যে রহমতের দরজা খুলে দেন এবং জাহান্নামের দরজা বন্ধ করে দেন । এ মাস বরকতের মাস, সংযমের মাস , এ মাসেই ঈমানদারগণের রিজিক বৃদ্ধি করে দেওয়া হয় । আর এ মাসে আল্লাহ তায়ালা আমাদের জন্য সাওয়াব এর ভান্ডার নিয়ে বসে থাকেন, অর্থাৎ আমরা যে আমলই করি না কেন , তার সাওয়াব আল্লাহ তায়ালা আমাদের বহুগুণে প্রদান করবেন ।

রমজান মাসে যা যা আমাদের অবশ্য পালনীয় :

১. সর্বপ্রথম আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি লাভে নিয়মিত ৫ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতে হবে।
২. দুআ পড়ে সঠিক ভাবে সেহেরী ও ইফতার করতে হবে।
৩. সকল প্রকার ইন্দ্রিয় তৃপ্তি হতে বিরত থাকতে হবে।
৪. ফিতরা ঠিকমত আদায় করতে হবে।
৫. ইসলামের ৫টি স্তম্ভের মধ্যে তৃতীয় স্তম্ভ হলো সাওম বা রোজা; তাই আমাদের সকলকে রোজার সঠিক গুরুত্ব উপলব্ধি করে রমজান মাসের প্রত্যেকটি রোজা ধৈর্য সহকারে পালন করতে হবে।
৬. সকলের হক ঠিকমত প্রদানের চেষ্টা করতে হবে।
৭. সবচে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, হোম কোয়ারেন্টাইনে থেকে নিয়ম মেনে যাবতীয় সকল কাজ করতে হবে।

রমজান মাসে আমরা কি কি ভালো কাজ করতে পারি :

১. গরীব-দুঃখী মানুষদের আর্থিক সাহায্য করতে পারি, অথবা তাদের ইফতার করাতে পারি, সম্ভব হলে দায়িত্ব নিয়ে আমরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য তাদের পৌঁছে দিতে পারি ।
২. নিয়মিত পবিত্র কুরআন পাঠ করতে পারি । (এতে করে আমরা যেমন প্রচুর সাওয়াব পাবো, তেমনই আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি এবং পরিবারের সকলের উৎসাহ উদ্দীপনা উভয়ই অর্জন করতে পারব।)
৩. গরীব-দুঃখী মানুষদের হক ঠিকমত প্রদান করতে পারি ।
৪. আসন্ন ঈদে অনাথ শিশুদের কিংবা বৃদ্ধাশ্রমে প্রৌঢ় মানুষদের নতুন জামা-কাপড় কিনে দিতে পারি । এতে করে আমাদের মত তারাও পবিত্র ঈদ উল ফিতর উৎসাহভরে উদযাপন করতে পারবে ।

পুরো রমজানে হোম কোয়ারেন্টাইনের এই সময়ে আমরা কি কি ফলপ্রসূ কাজ করতে পারি:

১. স্কিল ডেভেলপমেন্ট করা আমাদের জন্য অত্যন্ত জরুরি। তাই ঘরে বসেই আমরা চাইলে বিভিন্ন স্কিল ডেভেলপমেন্ট এর উপর কোর্স করতে পারি। যেমন: মাইক্রোসফট ওয়ার্ড, এক্সেল, পাওয়ারপয়েন্ট ইত্যাদি ।
২. ঘরে বসেই ইংরেজিতে স্পিকিং প্র্যাকটিস করতে পারি এবং প্রতিদিন নিত্য নতুন ইংরেজি ওয়ার্ড শিখতে পারি ।
৩. আমাদের অ্যাকাডেমিক পড়াগুলো রুটিন বেঁধে কমপ্লিট করতে পারি ।
৪. নিয়মিত কুরআন পাঠ করার পাশাপাশি ইসলামী বই পড়তে পারি, এতে করে আমাদের নিজ ধর্ম সম্পর্কে অফুরন্ত জ্ঞান বৃদ্ধি পাবে ।
৫. ইসলামী বই ছাড়াও আমরা গল্পের বই পড়তে পারি ।
৬. একস্ট্রা কারিকুলার স্কিল ডেভেলপ করতে পারি, যেমন: আর্টস অ্যান্ড ক্রাফট ওয়ার্কস ইত্যাদি ।

পরিশেষে, এই রমজান আমাদের সবার মাঝে নিয়ে আসুক শান্তি । আমরা যেন সকলে সুস্থ থেকে রমজানের প্রত্যেকটি ইবাদাত সঠিক ভাবে পালন করতে পারি সেই তৌফিক আল্লাহ যেন আমাদের দান করেন । মহান আল্লাহতালা আমাদের করোনা ভীতি এবং চলমান পরিস্থিতি থেকে মুক্তি দিক ।

ভালো থাকুন,
সুস্থ্য থাকুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here