গোলটা আমিই দিয়েছি। দূর থেকে এখনো শোনা যাচ্ছে অনি ভাই জিন্দাবাদ, অনি ভাই জিন্দাবাদ। কোথায় এখন আমাকে সবাই কাধে তুলে নাচবে, কোনো এক দোকান বা রেস্টুরেন্ট থেকে ভরপেট সিঙ্গারা, আলুর চপ, বেগুনি খাওয়াবে তার বদলে এখন আমায় ঝোপের মধ্যে বসে বসে মশার কামড় খেতে হচ্ছে। ঠাস করে একটা মশা মারতে গিয়ে নিজের চড় খেয়ে নিজেরই মাথা ঘুরে গেলো। আমাদের স্কুলের অংক স্যার অংক না পারলেও কোনদিন এত জোরে চড় মেরেছেন কিনা মনে করতে পারলাম না। অইতো আবার চিৎকার শোনা গেলো অনি ভাই জিন্দাবাদ। এদিকে আমি বসে আছি কাদা প্যাচপেচে ঝোপের মধ্যে আর আমার আশেপাশে মশার বাদ্য বাজছে। আবার একটা মশা কামড় দিল। আহ..  করে চিৎকার দিতে গেলেও নিজেকে সামলে নিলাম।আপাতত আরো এক ঘন্টা এই ঝোপের মধ্যে আমায় মৌনতা অবলম্বন করে থাকতে হবে। সন্ধ্যা নামার আগে এখান থেকে বের হওয়ার উপায় নেই।ওদিকে দূরে চিৎকার ক্রমশ মিলিয়ে যাচ্ছে অনি ভাই জিন্দাবাদ, অনি ভাই জিন্দাবাদ।

আমি শিয়ালদা গ্রামের অনির্বাণ সাহা। সহজ সরল, অতিভদ্র প্রকৃতির ছেলে। কোনদিন কোন ঝামেলার আশেপাশে আমাকে দেখা গিয়েছে এমন অপবাদ আমাকে আমার পরম শত্রুও দিতে পারবে না। শিয়ালদা ছেড়ে কোনদিন যে আমায় আলীপুর এর এই ঝোপের মধ্যে মশাদের সাথে বনবাস করতে হবে সে কথা কে জানত!

আমার ডাকনাম অনি। আমি শিয়ালদা টাইগার স্পোর্টিং ক্লাবের একজন উৎসাহী সদস্য। আমি নিজে খুব একটা ভালো খেলি না তবে সবসময় খেলোয়াড়দের প্রেরণা দিয়ে থাকি। আমাদের ক্লাবের বড় কোন খেলা হলে সেদিন হতে সাতদিন ধরে আমার গলাব্যাথা সারে না। যদি আমাদের ক্লাব কোন বড় টুর্নামেন্ট বা অই ধরনের বড় কোন ম্যাচে জিতে যায় তাহলে আনন্দের চোটে কখনো কখনো আমার জ্বর  এসে যায়।

সদস্য হয়ে ভালোই ছিলাম। সমস্যা বাধলো খেলোয়াড় হতে গিয়ে। আমাদের ক্লাবের সাথে আলীপুর এর সিনিয়র স্পোর্টিং ক্লাবের ফুটবল ম্যাচ। তাও আবার যে সে ম্যাচ নয়। কারন ম্যাচটির আয়োজক হলেন শিয়ালদা গ্রামের চেয়ারম্যান জনাব রেজওয়ান বেপারী। এই ম্যাচটি দেখার জন্য ২ গ্রামের চেয়ারম্যান ও অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যাক্তিগন উপস্থিত থাকবেন। তাই এই ম্যাচটিকে অন্য পঁাচ টা ম্যাচের সাথে তুলনা করলে চলে না। তাই আমাদের ক্লাবের সব প্লেয়াররা অনেক ভালোমতো অনুশীলন শুরু করলো। এই ম্যাচে আমার ভূমিকাটিও যথেষ্ট গুরুত্ববহ কেননা আমাকেই তো সব প্লেয়ারদের উৎসাহ  দিতে হবে। তাই আমিও খেলার ৩ দিন আগে থেকেই সা রে গা মা পা অনুশীলন করতে থাকলাম। গান শেখার জন্য নয়। খেলার সময় যাতে একটানা ২ ঘন্টা চিৎকার করতে পারি সেই জন্যে।

কিন্তু আজকে খেলার দিনে বাধলো বড় সমস্যা। আমাদের দলের দুই প্রধান খেলোয়াড় ঝন্টু ও মন্টু ২ ভাই। ওরা দুইজনেই দারুণ ডিফেন্স খেলতো। ওরা ডিফেন্সে দাড়ালে অনেক ভালো ভালো খেলোয়াড়রা ভয় পেয়ে যেতো। কারন ওরা ফুটবল খেলার চেয়েও অনেক ভালো পারত প্লেয়ারদের ল্যাং মারতে। ওদের ট্যাকল করতে গিয়ে কতজন যে ইতিপূর্বে ইঞ্জুরি নিয়েছে তার হিসাব নেই। কিন্তু খেলার দিনে ওরা আসতে পারলো না। আজকে সকালে ওদের কাছে খবর এলো যে ওদের নানী খুবই অসুস্থ। তাই ওদেরকে ওদের বাবা-মা এর সাথে যেতে হলো নানীর বাড়িতে।  এদিকে আমাদের দলের ভিত্তি নড়ে গেলো। আমাদের দলের স্টার প্লেয়ারদের মধ্যে ওরা ছিল। এছাড়াও আরও ভালো অনেক খেলোয়াড় ছিলো কিন্তু ওদের মত এমন ভালো ডিফেন্স আমাদের আর কেউ ছিল না। তাই সকাল থেকে আমাদের ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন ভাই এর মাথা অনেক গরম ছিল। সে যাই হোক ম্যাচ যথাসময়ে শুরু হলো। ডিফেন্সে আমাদের ২ জন ব্যাকআপ খেলোয়াড় নামানো হলো। খেলায় গিয়ে দেখা গেলো যে বিপক্ষীয় দলের সব সেরা খেলোয়াড়গুলো খেলতে নেমেছে। এদের সাথে আমরা আগেও দুয়েকবার খেলেছি এবং প্রতিবারই ভালোভাবেই হেরেছি। আমাদের দলেরও সবাই ভালই খেলে কিন্তু তারপরেও তাদের দল আমাদের দলের চেয়ে ২ গুন শক্তিশালী এটা বলতেই হবে। বিশেষ করে তাদের স্ট্রাইকার রাশেদ ভাইকে দেখলে ভয় পেতেই হয়। তাকে হঠাৎ দেখলে বিশালদেহী দৈত্য মনে হয়।  বিপক্ষ দল দেখে আমার উৎসাহ দমে গেল। কিন্তু তাও আমি প্রানপনে চেঁচিয়ে যেতে থাকলাম। সবাইকে বাইরে থেকে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দিতে থাকলাম। কিন্তু আমাদের ভাগ্য আমাদের অতটা সহায় ছিলো না। ৫ মিনিটের মাথায় দেখি বল আমাদের পোস্টের দিকে ধেয়ে আসছে আর বলের পিছে সেই আলীপুরের ষাড় নামে খ্যাত রাশেদ। আমি মনে মনে ভাবছি আজকে মনে হয় কয়েক হালি গোল খেলেও খেতে পারি।  বাসায় গিয়ে আর কিছু খেতে হবে না। কিন্তু আমার সব দুশ্চিন্তা দূর হয়ে গেলো আমাদের ডিফেন্ডার শাহেদ এর এক কিকে। সে দারুণ এক কিকে বল আমাদের ফরোয়ার্ড এর দিকে পাঠিয়ে দিলো। তার ওই এক কিক দেখে মনে হলো যে আমাদের আজকের ম্যাচে কিছুটা হলেও আশা আছে। পুরো দলই বেশ ভালোভাবে সমন্বয় করে খেলছিল। প্রায়ই ওরা আলীপুর এর পোস্টের দিকে বল নিয়ে যাচ্ছিল। একবার তো প্রায় গোল হতে হতে মিস করে গেলো। আমাদের গোলকিপার আলমও বেশ কয়েকটা দারুণ সেভ করলো। বলতেই হবে যে আমাদের খেলোয়াড়রা যথেষ্ট সাহসিকতা ও নিবেদিতপ্রাণ হয়ে খেলছিল যার ফলে প্রতিপক্ষ আমাদের সাথে খুব বেশি সুবিধা করতে পারছিল না। কিন্তু দুর্ঘটনা ঘটতে বেশি সময় লাগলো না। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার মাত্র ৫ মিনিট বাকি ছিল, এমন সময়ে আমাদের সেন্টার ফরোয়ার্ড এর মাহবুব ভাই কাদায় আছাড় খেয়ে মারাত্মক আহত হলো। তার বদলে আমাদের দলের শেষ প্লেয়ার মিলন ভাইকে সেন্টার ফরোয়ার্ডএ নামানো হলো। তিনি তেমন ভাল প্লেয়ার ছিলেন না। এমনকি তিনি নিয়মিত খেলোয়াড়ও ছিলেন না। তিনি মাঝে মাঝে আমাদের সাথে খেলতেন।  যাই হোক, বিপদে পড়ে তাকে নামানো হলো। কিন্তু তিনি মাঠে নেমে অনেক ভুল করতে লাগলেন। এক মিনিটে তিনবার বল মাঠের বাইরে কিক করে দিলেন। কোন রকমভাবে আমরা আমাদের প্রথমার্ধ শেষ করলাম।  ৪৫ মিনিটে আমার গলা প্রথমবারের মতো বিরতি পেলো। আমি তাড়াতাড়ি পানি খাওয়ার জন্য গেলাম। পানি খাওয়ার সময় মনে হলো সত্যিই আজকে চিৎকার টা একটু বেশিই হয়ে গেছে। এই গলাব্যাথা মনে হয় ১ মাসেও সারবে না। আমি দ্রুত পানি খাওয়া শেষ করে ফিরে দলের কাছে ফিরে এলাম। বলাই বাহুল্য যে আমার ভূমিকা দলে অতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল না। তাই আমি হাফ টাইমের সময় দলের কাছ থেকে কিছুটা দূরত্ব বজায় রাখতাম কেননা অই সময় তারা খেলার গুরুত্বপূর্ন প্ল্যানিং করে। তাই তাদের মাথা তখন গরম থাকে। আজকে কিছুটা ভিন্ন ঘটনা হলো।  আমি পানি খেয়ে আসার পর দেখি আলাদা করে আমাদের কোচের সাথে ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন ভাই কি যেন কথা বলছেন।  আমাকে দেখতে পেয়ে মহিউদ্দিন ভাই আমাকে ডাকলো।  এমনিতে উনার সাথে আমার সম্পর্ক ভালোই ছিল।ডাকার পর তার আর আমার মধ্যে নিম্নলিখিত কথোপকথন হলো…….

ক্যাপ্টেন : কিরে অনি আজকের খেলা দেখে কি বুঝছিস?

আমি: ভাই, খেলা তো আপনারা দারুণ খেলছেন। শুধু ঝন্টু আর মন্টু ভাই থাকলেই ওদের একদম মাত করে দেয়া যেতো।

ক্যাপ্টেন : হুম। কিন্তু মিলনকে নামিয়ে তো কোন সুবিধা করতে পারছি না। প্রথমার্ধ কোন রকমে ঠেকিয়ে রেখেছি কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধ  এই দল নিয়ে বেশিক্ষণ টিকতে পারবো না। তাই আমরা একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

আমি: কি সিদ্ধান্ত?

ক্যাপ্টেন : দ্বিতীয়ার্ধে আমাদের ডিফেন্ডার থাকবি তুই??
[কথা শুনে আমি স্তব্ধ হয়ে গেলাম। মনে মনে ইংরেজি ছবি দেখে শিখা একটা বাক্য আওড়াতে লাগলাম,”What the hell”।]

আমি: কিন্তু আমি তো এর আগে কোনদিন তেমন একটা ফুটবল খেলিনি ভাই। আমাকে এত বড় ম্যাচে নামানো কি ঠিক হবে?

ক্যাপ্টেন : মিলনকে দিয়ে খেলানোর চেয়ে তোকে নামানো কিছুটা হলেও ভাল হবে।

আমি: কিন্তু ভাই আমি তো এত বড় বড় খেলোয়াড়দের দেখে মাঠেই অজ্ঞান হয়ে যাবো।

ক্যাপ্টেন : তোর অজ্ঞান টজ্ঞান কিছু হতে হবে না। তুই শুধু বল কাছে পেলে সোজাসুজি কিক করে দিবি।

এমন সময় দলের বাকিরা ডাক দিলো। সময় শেষ। খেলা আবার শুরু হবে। এবার গোলপোস্ট পরিবর্তন হবে। আমরা সবাই পজিশন নিয়ে নিলাম। আমি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মনে মনে বলছি ঈশ্বর আমায় আজকের দিনটার জন্য উদ্ধার করে দাও। আর কখনো আলিপুর আসবো না। কিন্তু আমার মেসেজ টা মনে হয় ঈশ্বর এর কাছে গেলো না। কারন খেলা শুরুর ২-৩ মিনিট না যেতেই দেখি আমার সবচেয়ে বড় ভয় যেটি ছিলো মানে বিপক্ষের রাশেদ বল নিয়ে খুবি ক্ষিপ্রগতিতে এগিয়ে আসছে। আমাদের সেন্টার তাকে আটকানোর চেষ্টা করলো কিন্তু পারলো না। এখন রাশেদ আর গোলকিপার এর মধ্যে আমি ছাড়া আর কেউ নেই। এদিকে মাঠের বাইরে ও ভিতরে সবাই চিৎকার করছে অনি চার্জ কর। জোরে কিক কর। সবার চিৎকারে আমার মাথা ভো ভো করছিলো। এদিকে আমার হাত-পা ও কাঁপছিল। আমি এক মূহূর্ত কিছু বুঝতে পারলাম না। যখন আমার হুশ হলো ততক্ষনে রাশেদ আমার খুব কাছে এসে গেছে। আমি আর কিছু চিন্তা না করে চোখ বন্ধ করে সর্বশক্তি দিয়ে কিক মারলাম। তারপর শুনলাম সবাই চিৎকার করছে সাবাশ অনি সাবাশ। আমি দেখলাম যে আমার এক কিকে বল সোজা আমাদের ফরোয়ার্ড মনির ভাইয়ের কাছে চলে গেছে। কিকটি করার পর আমার মনে হলো ফুটবল খেলাকে যতটা কঠিন ভাবতাম আসলে এটা ততটা কঠিন নয়। ইচ্ছে করে এতদিন নিয়মিত খেলিনি বলে কোন উন্নতি হয়নি। নিয়মিত খেললে এতদিনে হয়ত বাফুফে থেকে ডাক পড়ত কিংবা হয়তো বড় কোনো ক্লাবে আমাকে কিনে নিতো বিশাল টাকা খরচ করে। এক কথায় ওই একটি কিক করার পর আমার আত্মবিশ্বাস অনেক উপরে উঠে গেলো। এরপর পরবর্তী ১০ মিনিটে ৩ টা বল সেভ করে ফেললাম।  সবাই অনেক বাহবা দিতে লাগলো  এমনকি আমাদের ক্যাপ্টেন ও বললেন – কিরে অনি তুই তো দেখছি ফার্স্টক্লাস ডিফেন্স খেলিস রে। এখন থেকে তো তোকে আরো সুযোগ দিতে হবে। তাদের এমন কথায় গর্বে আমার বুক ফুলে উঠলো।এরপর কি আর ভয় পেলে চলে? এমনকি আমি আমাদের দলের অনেক সিনিয়র প্লেয়ারদের পিছনে দাঁড়িয়ে উপদেশ দিতে শুরু করলাম। নিজই নিজের উপর রাগ হতে লাগলো এতোদিন ফুটবল না খেলার জন্য। এদিকে ম্যাঁচ খুবই জমজমাট হয়ে উঠছিল। ৮০ মিনিট পার হয়ে গেলেও কোন পক্ষের কোন গোল হলো না। শেষ দিকে সবাই গোল দেয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠলো। সবাই আগের থেকে অনেক বেশি ক্ষিপ্র হয়ে উঠলো। আমি কিছুই বুঝতে পারছিলাম না ব্যাপার। এদিকে হঠাৎ এক ঘটনা হলো। খেলার সময় প্রায় শেষের দিকে। ৩,৪ মিনিট বাকি হবে হয়ত দেখতে পেলাম বিপক্ষের সেন্টার হাবিব ভাই বল নিয়ে দ্রুতগতিতে এগিয়ে আসছে। প্রথম তাকে দেখে কিছু মনে না হলেও পরে তার ক্ষিপ্রতা ও মনোভাব দেখে আমার ভয় লাগতে লাগল। আমি দৌড়ে গেলাম তাকে আটকানোর জন্য। কিন্তু এবার আর ভাগ্য আমার সঙ্গ দিলো না। আমি তার কাছাকাছি গিয়ে কাদায় আছাড় খেয়ে পড়লাম। সাথে সাথে মনে হলো যেন বড় কোন গাছ থেকে সোজা মাটিতে পড়েছি। চোখের সামনে সবকিছু যেন চড়কার মতো ঘুরছে। হঠাৎ অনুভব করলাম কিছু একটা আমার পায়ের সাথে লাগলো। চোখে না দেখেও বুঝতে পারছিলাম অপরপক্ষের হাবিব আমার পায়ের সাথে লেগে আমার মতই চিৎপটাং হয়ে গেছে। সাথে সাথে চিৎকার শুনলাম। সবাই বলছে অনি জলদি উঠে কিক কর এই সুযোগ।  আমি বুঝতে পারলাম এখন উঠতে পারলে আমি দারুণ কিছু করতে পারবো। তাই শত কষ্ট হলেও উঠে দাঁড়ালাম। দেখলাম সামনে হাবিব ভাই পড়ে আছেন মাটিতে তার পাশে বল। আশেপাশে সবাই বলছে কিক কর, কিক কর , জোরে শট কর।সত্যি বলতে আমি আশেপাশে কিছু ভালোমতো দেখতে বা শুনতে পাচ্ছিলাম না।আমিও আর কিছু চিন্তা না করে গায়ে যত জোর ছিলো সব মিলিয়ে শট মারলাম। সঙ্গে সঙ্গে চিৎকার শুনলাম গোল.. গোল..।  আমি অবাক হয়ে ভাবলাম যে আমার কিকটা কি এতই জোরে হলো যে সারা মাঠ পার করে  বিপক্ষের গোলপোস্ট এ গিয়ে ঢুকবে? তারপর আমি চারিদিকে ভালোভাবে তাকিয়ে যা বুঝলাম তাতে আমার হাত – পা অবশ হয়ে গেলো। আমি আমাদের গোলপোস্টের দিকে তাকিয়ে দেখলাম যে আমাদের গোলকিপার আলম আমার দিকে ক্রুদ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। তার মুখটা পুরো হা হয়ে গেছে। তার পিছনে সাদাকালো বলটি আমাদের গোলপোস্ট এর নেটে জড়িয়ে স্থির হয়ে আছে। যেন সেও আমার কান্ড দেখে স্তব্ধ হয়ে গেছে।

তারপর??

তারপর আর কি? খেলার মাঠ থেকে ১ মাইল দূরে এই ঝোপের মধ্যে আমি লুকিয়ে আছি। আমার দলের সবাই আমাকে খুজতে ব্যাস্ত। আর অন্যদিকে আলীপুর গ্রামের সাপোর্টারস রা চিৎকার করছে অনি ভাই জিন্দাবাদ, অনি ভাই জিন্দাবাদ। আর আমি আছি এখান থেকে নিজের গ্রাম এ জিন্দা শরীরে ফিরে যাওয়ার দুশ্চিন্তায়।

[সমাপ্ত]
Note: The plot of this story is inspired from another story written by Narayan Gangopadhay.

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here