প্রতিশোধের অগ্নি

লেখকঃ আজফার মুস্তাফিজ

প্রতিশোধের অগ্নি
প্রতিশোধের অগ্নি

১|
‘তিশা তোমাকে আজ খুব সুন্দর দেখাচ্ছে।’ কলেজের ইংরেজি স্যার এর এমন মন্তব্যে কেঁপে উঠলো তিশা। আজ সে কলেজ এর ইউনিফর্ম এ আসে নি। তার একটাই ড্রেস যেটা তার আম্মু ধুয়ে দিয়েছে। তাই আজ একটা বোরখা পরে, মুখে হিজাব বেধেই কলেজে এসেছে সে। পর্দার কোনো প্রকার ত্রুটি সেখানে ছিলো না। ইংরেজির শিক্ষক জুয়েল স্যার তার দিকে লোলুপ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। সেটা স্যারের দিকে না তাকিয়েই বুঝতে পারছে তিশা। মুখে হাসির রেখা ফুটিয়ে তুলে জুয়েল স্যার বললো, ‘আজ টিউশনিতে একটু আগে আসবে। তোমাকে আমার হাতের রান্না খাওয়াবো।’
কলেজের সব বান্ধবীদের মাঝে এমন কথা শুনে তিশার লজ্জায় মরে যাবার মতো অবস্থা। সবাই জানে জুয়েল স্যারের চরিত্র ভালো না। বয়স ত্রিশের কোটায় তবুও বিয়ে করে নি। তার বিষয়ে নানান কথা শোনা যায়। তিশার খুব ভয় হয়। স্যারের কাছে পড়তে যাওয়া বাদ দিলেই ভালো হবে মনে হয়।
‘এই মাসের থেকেই বাদ দিয়ে দেব।’ মনে মনে কথা গুলো বলে সে।
২|
‘আচ্ছা আমার মায়াঁখি এতো চুপচাপ কেন আজ?’ রনো তিশার মায়াবি চোখ দুটোতে বিষণ্নতা দেখে প্রশ্ন করলো। মুখটা নামিয়ে, কিছু দুর্বা ঘাস ছিড়তে ছিড়তে তিশা উত্তর দিল,
‘জুয়েল স্যার আবার অমন করেছে!’
‘কি! তুমি কিছু বলো নি?’
‘আমি কি বলবো, আমার ঘৃনা লাগে, এইসব মানুষের সাথে কথা বলতে।’
‘এটা তোমার ভীতু স্বভাবের কথা!’ তোমার উচিত ছিলো ওর মুখে জুতা মারা।’
‘আমি তোমার মতো সাহসী না। আমি খুব সহজ সরল।’
মায়াঁখি! রনো তিশাকে মাঝে মাঝেই মায়াঁখি বলে ডাকে। চোখ দুটি অনেক সুন্দর আর সে চোখেরই মায়ায় বাঁধা পড়েছে সে। তাই ভালোবেসে তিশাকে মায়াঁখি নামে ডাকে। আবার কখনো আরো সংক্ষেপ করতে শুধু মায়া। কিছু টা নীরবতার পর রনো বললো, ‘এই পৃথিবীটা একটা নিষ্ঠুর জঙ্গল। জঙ্গলে গেলে দেখা যায়, সোজা গাছ কাটা পড়ে গেছে। আর বাঁকা ও প্যাঁচানো গাছ দাড়িয়ে আছে।’
‘বাহ! ভালো বলেছো। কিন্তু তোমার কথার অর্থ আমি প্রায় বুঝি না।’
‘ভালোবাসো?’
‘অনেক বেশি’
‘তাহলেই হবে।’
‘একটা জিনিস দেখবে?’ বলে ব্যাগ থেকে আজকের খবরের কাগজ বের করলো তিশা। সাহিত্য পাতা থেকে একটা কবিতা পড়লো। কবির নাম আজফার মুস্তাফিজ।’ তারপর বললো, ‘তোমার কবিতা ছাপছে বলোনি তো। আর রনো নামটা তো সুন্দর দাও নি কেন?’
‘বলা হয়নি। দুঃখিত। আর ডাকনাম কেউ দেই নাকি!’
‘আমি ভালোবাসি। তাই সামনে বার দিবে।’
৩|
তিশাকে যখন কবরে নামানো হচ্ছিলো, তখন আকাশে কালো মেঘ ছেয়ে গেছে। কবরের ভেতর একমুঠো মাটি ফেলে দিল রনো। সবাই যখন চলে গেছে, হঠাৎ মেঘে ভাঙন ধরলো। শুরু হলো ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি। বোঝা যায় না তার চোখের নিচে বৃষ্টির পানি নাকি কান্নার । কিন্তু মায়ের মৃত্যুর পর আর কখনো কাঁদেনি সে। কান্না তার চোখে আসে না। ভেতরেই শুকিয়ে যায়। আজ কান্না থামছে না। কবরস্থান একদম ফাঁকা আশে পাশে বাড়ি ঘর ও নেই। সুর্য অস্ত গেছে অনেক আগেই। তিশার কবর জড়িয়ে কাঁদছে রনো। সারা রাত তার সেভাবেই কেটে গেল। ভোরের আলো ফুটে উঠলে সে চোখের জল মুছে ফেলল। বৃষ্টিও থেমে গেছে। তার মনের মাঝে আগুন আবার জ্বলে ওঠেছে। ভেজা জামা কাপড় আর চুল থেকে টপটপ করে পানি পড়ছে। জড়তা মেশানো কণ্ঠে তিশার কবরে হাত রেখ রনো বললো, ‘বাঁচতে দেব না।’ সব জ্বালিয়ে ছারখার করে দেব।’

৪|
সেদিন মাসের শেষ দিনের পড়া শেষ করে, মাসিক বেতন পরিশোধ করে দিলো তিশা। জুয়েল স্যার টাকা নেওয়ার বাহানায় তার হাত চেপে ধরেছিল। তিশা ভয় ও রাগে সবার সামনেই তার গালে চড় বসিয়ে বাসায় চলে এসেছিলো। সে আর সেই স্যারের সামনেও যাবে না। কলেজ ও যাওয়া বন্ধ করে দিলো। বাড়িতে তার বাবা মা খুব চিন্তায় পড়লো। কিন্তু তিশা কিছুই বলতে চায় না। তিশার বাবা আফজাল উদ্দিন ও একজন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। সে মনে করলো হইতো রাস্তার কোনো ছেলে কিছু বলেছে। তিশা দেখতে অনেক সুন্দরী। তাই তার জন্য বাবার খুব দুশ্চিন্তা। মেয়েটার ভালো জায়গায় বিয়ে দেওয়া দরকার। এখন বিয়েটা দ্রুত দিয়ে দিতে পারলেই ভালো।
কিছুদিন পর তিশা ঘরেই ছিল, তার মা এসে বললো,
‘তিশা মা! তোকে আজকে দেখতে আসবে তৈরী হয়ে নে।’
এমন কথায় তিশার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়লো। সে আসলেই এখন বিয়ে করতে চায় না। আবার রনোকে ছাড়া অন্য কাউকে বিয়ে করতেও পারবে না।
সে মাকে বলে, ‘আম্মু আমি এখন বিয়ে করতে চায়না। আমি পড়াশোনা শেষ করতে চায়।’ তিশা অনেক ভালো ও ব্রিলিয়ান্ট ছাত্রী জেএসসি ও এসএসসি দুই পরীক্ষায় প্লাস নম্বর পেয়েছে। এইচএসসি তেও অবশ্যই পাবে। কিন্তু তার পরিবারের সবাই তার কোনো কথায় শুনল না। সে রনোকে ফোন দিয়ে বললো’ যে আমার বিয়ে দিয়ে দেবে। আজ দেখতে আসছে।’
রনো এখন সবে মাত্র অনার্স শেষ করেছে। বাবা অসুস্থ। হাসপাতালে ভর্তি। কিছু সময় পেলে সে একটা ভালো চাকরি জোগাড় করতে পারবে। কিন্তু এখন তো আর বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে যাওয়া সম্ভব না। গেলেও তিশার বাবা মেনে নেবে না। আর তিশার বাবা রনোর শিক্ষক ছিলো। রনোকে সে খুব একটা পছন্দ করেও না। রনো ভালো ছাত্র, ব্যবহার ভালো সব ভালো। কিন্তু একটু বেখেয়ালি। কেমন একটা হারানো হারানো ভাব তার মাঝে। এই তো সেবারই স্কুল পরীক্ষায় সবাই পরীক্ষা দিচ্ছে তখন নাকি কোনো এক ছেলে নকল করে লিখছিল। তাই সে সেই ক্লাসের শিক্ষক কে বলে দিলে সে নাকি কিছু বলে নি। তখন হঠাৎ ছেলেটার নাকে শক্ত ঘুসি বসিয়ে নাক ভেঙে দিল! আবার ছেলেটা ছিল প্রধান শিক্ষকের ছেলে। কি একটা অবস্থা। তাকে পরীক্ষার পর আর পরের ক্লাসে ভর্তি হতে দেওয়া হয়নি। তার হাতে ধরিয়ে দেওয়া হলো ট্রান্সফার সার্টিফিকেট। রনো চুপচাপ বেরিয়ে গিয়েছিলো সেই বিদ্যালয় থেকে। দরকার নেই অনৈতিকতার শিক্ষা। যেই স্কুলের প্রধান শিক্ষকই অসাধু, সেই স্কুল থেকে বের হওয়া শিক্ষার্থীরাই হয়তো ভবিষ্যতে ভন্ড নেতা হয়। রনো তিশাকে বলে দিলো, ‘আচ্ছা দেখতেই তো আসছে।’
তিশা নীল শাড়ি পরেছে। তাকে সবসময় অপরূপ লাগে। আজও অনেক সুন্দর লাগছে। তিশাকে যখন জুয়েল স্যারের সামনে বসানো হলো তখন তার লোভী চোখ দুটোতে আলো জ্বলে উঠেছে। তিশা যানেও না তার সম্বন্ধ কার সাথে ঠিক হতে চলেছে। তিশা মাথার সামনে তাকিয়েই কেঁপে উঠলো। তিশার বাবা বলতে লাগলেন,
‘জুয়েলের বাবা অনেক দিন ধরে আমাকে বলছেন জুয়েল এর সাথে তিশার বিয়ের কথা। আমি এতোদিন বলেছিলাম আগে তিশা পড়াশোনা শেষ করবে তারপর বিয়ের কথা ভাবা যাবে। কিন্তু দিনকাল যা হয়েছে, তাই বিয়েটা হয়ে যাওয়ায় ভালো।’
জুয়েলের বাবা বললেন, ‘ঠিক বলেছেন। বিয়ের দিন খন তাহলে ঠিক করে নিলেই ভালো হয়।’ জুয়েল এর মা তিশার দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করলেন, ‘তিশা মা, আমার জুয়েল কে বিয়ে করতে তোমার কোনো আপত্তি নেই তো।’ তিশার মা বললেন,’ আরে কি বলেন! জুয়েলের এতো ভালো ছেলে। আর তিশার সাথে তো আগে থেকেই পরিচিত। ওর কোনো আপত্তি থাকবে কেন।’
জুয়েল তিশার দিকে তাকিয়ে বললো, ‘তাহলে আজকেই আংটি বদল করে রাখলেই হয়।’
‘অতি উত্তম প্রস্তাব।’ বললেন তিশার বাবা।
তিশার মতামত না নিয়েই জুয়েল স্যারের সাথে তার এনগেজমেন্ট হয়ে গেল।
কিছুদিন পরের কথা রনোর নম্বর বন্ধ আসছিলো। বলে তিশা খুব রেগে আছে। ছেলেটা খুবই উদাসীন। নিশ্চয় মোবাইল বাড়িতে ফেলে বাইরে গিয়েছে। রাগ করে সেও নিজের মোবাইল বন্ধ করে রাখলো। এমন সময় বাইরে কেমন হইচই শুনতে পেল সে। দরজার কাছে দাঁড়িয়ে বাইরে তাকিয়ে দেখলো জুয়েল স্যার হাসি হাসি মুখ নিয়ে বসে আছে। মাথায় রাগটা আরো বেড়ে গেল। এই মানুষটার সাথে তার বিয়ে হবে! এটা সত্যিই অসহ্য। আজ আবার কেন এসেছে?।
তিশার আম্মু তিশা কে দেখে বলল, এই যা তৈরী হয়ে নে। জামাই বাবা এসেছে তোকে নিয়ে নাকি একটু ঘুরতে যাবে।’
‘আমি ওনার সাথে কেন যাব?’ উত্তর দিল তিশা।
‘যাবি নাই বা কেন? বিয়ের আগে একে অপরের সাথে সময় কাটিয়ে নে।’

তিশার মা জোর করেই পাঠিয়ে দিল তাকে। জুয়েল স্যার গাড়িতে বসেই তিশার দিকে সরে বসল। তিশার খুব ভয় হচ্ছে। সে জানালার দিকে আরো এগিয়ে গেল। কিন্তু একসময় সে গাড়ির দেওয়ালের সাথে পুরোপুরি ঠেকে গেল। হঠাৎ জুয়েল স্যারের ডান হাত তার কাধে চলে আসলো। ভয়ে কেঁপে উঠলো তিশা। জুয়েল স্যার তার শয়তানি হাসি হেসে বললো, ‘রিলাক্স সামনে শুক্রবারেই তো আমাদের বিয়ে। এখন তো আমি আর পর না।’ তিশা কোনো উত্তর না দিয়ে তার হাত সরিয়ে দিল। সামনে ড্রাইভার বসে আছে। জুয়েল স্যারের একটি হাত আবার তিশার শরীরে স্পর্শ করলো। ঘৃণায় চোখ বন্ধ করে নিলো সে। কিন্তু যখন বুকে হাতের চাপ অনুভব করলো তখনি চিৎকার দিয়ে বললো, ড্রাইভার! গাড়ি থামান আমি নেমে যাব।’ কিন্তু ড্রাইভারের তার কোথায় কোনো ভাবের পরিবর্তন হলো না। সে নির্বিকার ভঙ্গিতে গাড়ি চালাতে ছিল। জুয়েল স্যার এবার তার ওপর যেন হামলে পড়ল। সে বার বার চিৎকার করতে ছিল। কিন্তু তার আকুতি, মিনতি সব কিছু চাপা পড়ে যাচ্ছিল সাউন্ড প্রুভ জানালার কাচে। জুয়েল স্যার এর ড্রাইভার গাড়ির গতি ও মিউজিক সিস্টেম এর সাউন্ড উভয় বাড়িয়ে দিলো। মনে হচ্ছে এমন দৃশ্য সে মাঝে মাঝেই উপভোগ করে।

বাড়ির সামনে নামিয়ে দেওয়া হলো তিশাকে । তার চোখ কান্নায় ঘোলাটে হয়ে ছিল তাই হাঁটতে গিয়ে ধাক্কা খেল দরজার সাথে। সে দৌড়ে নিজের ঘরে ঢুকে দরজা লাগিয়ে বালিশে মুখ গুজে কাঁদতে লাগলো। এটা কি হয়ে গেল। জীবনের সব শেষ। তিশা মনে মনে চিৎকার করে উঠলো, ‘তোমার ভালবাসার মান আমি রাখতে পারলাম না রনো।’ আমার আর কিছুই থাকলো না।
রাতে তিশার বাবার কাছে একটি ফোন আসলো । তিনি হাসি মুখে ফোনটা ধরলেন কিন্তু কথা বলা শেষ হতেই তার মুখে অন্ধকার নেমে আসলো। তিশার বাবা ঘামতে লাগলেন। তিশার মা পাশেই ছিল। জিজ্ঞেস করলেন,
‘ওগো কি হলো তোমার? কার ফোন ছিলো?’
তিশার বাবা কাঁপা কাঁপা গলায় উত্তর দিলেন, ‘জুয়েল এর বাবা ফোন দিয়েছিলো।’
‘কি বললেন তিনি? কি হয়েছে বলবে?’
‘তাদের ছেলে নাকি তিশা কে বিয়ে করতে চাচ্ছে না।’
‘এ কি বলছ তুমি।’
‘হ্যা তাই বললো।’
‘কিন্তু বিয়ের দিন ঠিক হয়ে গেছে। আত্মীয় স্বজনদের দাওয়াত করা শেষ হঠাৎ কি হয়েছে?’
‘সেটা তোমার ঐ গুনো ধর মেয়েকেই জিজ্ঞেস করো গে।’ তিশার বাবা এবার হাফাতে হাফাতে বললেন, ‘ আমার আজীবন ধরে গোছানো সম্মান সব ধুলোই মিটিয়ে দিয়েছে তোমার মেয়ে।’
‘কি করেছে ও?’ ভীত কণ্ঠে জানতে চাইল তিশার মা।
‘জুয়েলের বাবা বললেন, জুয়েল নাকি শুধু তিশার হাতে হাত রেখেছিল। আর এই কারনে তিশা চিৎকার করে সারা এলাকার লোক জড় করে ফেলেছিল। লোকজন নাকি জুয়েল কে লম্পট অপবাদে গালা গালি করেছে। একজন আবার নাকি পাথর দিয়ে মেরে মাথা ফাটিয়েও দিয়েছে।’ কথা গুলো এক নিশ্বাসে বলেই নীরব হয়ে গেলেন তিনি।
‘তিশার মা মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়লো। কি ঘটনা এটা। একটা সম্মানীয় শিক্ষক তাকে এভাবে অপদস্থ করেছে তোমার মেয়ে?’
হ্যা। রাগে লাল হয়ে গেলেন তিশার বাবা।
‘আজ আমি ওকে মেরেই ফেলবো।’ বলে তিশার ঘরের দিকে ছুটলেন তিনি।
তিশার মা ভয়ে ভয়ে পেছন পেছন গেলেন। মানুষটা সহজে রাগে না , কিন্তু তার রাগ উঠে গেলে আর উপায় নেই।
তিশার বাবা তিশার কাছে গিয়েই তার গালে সজরে থাপ্পড় মেরে দিলেন। সে ধাপ করে খাটের ওপর পড়ে গেল। তার বাবা আগে কোনো দিন গায়ে হাত তোলে নি। কান্না তার চোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়তে লাগলো। সেই রাত তার জন্য একটা নরকীয় রাতে পরিণত হলো। সে জীবনে কখনো যে কথার সাথে পরিচিত ছিলো না । আজ সব এক সাথেই তাকে শুনতে হলো। চড় থাপ্পড়ে তার দুই গাল ফেটে রক্তের আভা দেখা দিল। তার মায়ের শত চেষ্টার পর ও বাবাকে থামানো যাচ্ছিল না। আশে পাশের প্রতিবেশীদের অনেকে চিৎকার শুনে জড় হয়ে গেছে। কেউ নীরবে দাড়িয়ে আছে। কেউ ব্যথায় ব্যথিত হচ্ছে কেউ বা আবার শুধু দর্শক হয়ে আনন্দ লাভ করছে। কিন্তু তাদের মাঝে আর্মি রিটায়ার্ড মির্জা আলম এগিয়ে এসে ধরলেন তিশার বাবা কে। এলাকার সবাই মির্জা আলম কে সম্মান সাথে ভয় ও করে। তাই তিশার বাবা থামলেন। কিন্তু অনেক দেরি হয়ে গেছিল। তিশার মন মানসিকতা ভেঙে গেছে পুরোটায় । মির্জা আলম হুঙ্কার দিয়ে বললেন, ‘কি সবাই তামাসা দেখতে এসেছেন? যান নিজের নিজের বাড়িতে যান।’
সবাই চলে গেলে তিনিও তিশার বাবাকে বুঝিয়ে সুঝিয়ে নিজের বাড়িতে চলে আসলেন।
তিশা ভেবে পাচ্ছে না মানুষের মাঝে এতোটা পশুত্ব কিভাবে থাকতে পারে। সে পুরোটা ভোগ করেও এই মিথ্যা গল্প কেন সাজাল? তিশার বাঁচার ইচ্ছে ছিলো না আর? কিন্তু রনোর হাসি বারবার তার সামনে ভেসে উঠেছিলো।
মনে হচ্ছিলো রনোর বলা কথা গুলো,
“দুনিয়া একটা নিষ্ঠুর জঙ্গল।
এখানে সোজা গাছ কাঁটা পড়ে যায়,
বাকা গাছ ঠিক মাথা চড়ায়। ”

সে অনেক বার রনোর নম্বরে ট্রাই করলো কিন্তু ফোন রিসিভ হচ্ছিল না।

৫।
ডক্টর কে আইসিইউ থেকে বেরিয়ে আসতে দেখেই রনো ছুটে গেল তার কাছে।
‘স্যার আমার বাবার কি অবস্থা? কেমন আছেন তিনি?’
ডক্টর সাহেব একটু তার চশমাটা খুলে বললেন, ‘আমরা দুঃখিত। তোমার বাবা আর এই দুনিয়ায় নেই।’
রনোর মনে তখন কি কোনো বজ্রপাত হলো নাকি তা ঠিক বোঝা গেলো না। শোনা গেল না তার আর্তনাদ। অনেক ছোট বেলায় মাকে হারিয়ে বাবার কাছেই বড় হয়েছে সে। বাবা তাকে কখনোই মায়ের অভাব বুঝতে দেয় নি। নিজে না খেয়ে হলেও তাকে নিজের হাতে খাইয়ে দিয়েছে। সেই বাবা আর নেই । তাকে একা করে চলে গেছে। দুই এক ফোটা জল তার চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়ার প্রস্তুতি নিতে ছিলো। তার আগেই সে চোখের পাতা বন্ধ করে নিলো। বাবার লাস নেওয়ার জন্য যাবতীয় হাসপাতালের ফরমালিটি পুরন করতে গিয়ে রিসেপশনে থাকা মেয়েটি জানালো অপরেশনের খরচ ও হাসপাতাল বিলের এখনো বিশ হাজার পঁচাত্তর টাকা বাকি। এটা দিয়ে মর্গ থেকে লাস সংগ্রহ করে নিন। প্রায় যা কিছু ছিলো সবটা বিক্রি করে , বিভিন্ন যায়গা থেকে টাকা ধার করে সে তার বাবার চিকিৎসার টাকা যোগাড় করতে ছিলো। কিন্তু এখন আর কোনো সম্বল নেই। একটা টাকাও নেই তার কাছে। পেপার গুলো হাতে নিতেই এবার চোখে থেকে পানি গড়িয়ে পড়ল তার। পানির ফোটা গিয়ে পড়লো রিসেপশনের মেয়েটির হাতের ওপর। মেয়েটি মাথা তুলে তাকালো তার দিকে। রনোর চোখের দিকে একপলক তাকিয়েই ভয় পেয়ে গেল মেয়েটি।
ছেলেটির চোখের মাঝে কি দেখা যায়! এটা কিসের দৃশ্য? এই ভাবের গভীরতা ঠাহর করতে পারে না মেয়েটি। রনো ফিরে যাচ্ছিল তখন মেয়েটি তাকে ডাক দিল,
‘এই যে শুনছেন।’
‘জ্বী! আর কিছু কী বাদ গেছে?’ প্রশ্ন করলো রনো।
‘না। আপনার কাগজপত্র গুলো একটু দিন।’
রনো কিছু না বলেই তার কাছে থাকা হাসপাতালের বিলগুলো বাড়িয়ে ধরলো তার দিকে। মেয়েটি কিছুক্ষণ কম্পিউটারে খট মট করে বোতাম টিপলো। আর নতুন বিলের কাগজ প্রিন্ট আউট হয়ে বেরিয়ে আসল।
রনোর দিকে ইশারা করে মেয়ে টি বললো , ‘ দুঃখিত মিস্টার আজফার মুস্তাফিজ! আমাদের হিসেবে কিছু ভুল ছিলো। আপনাকে আর কোনো টাকা দিতে হচ্ছে না। বরং পাঁচ হাজার টাকা বেশি দিয়ে ফেলেছেন। রনো একপ্রকার ভাবলেশ হীন দৃষ্টিতে মেয়েটির দিকে তাকাল। বয়স কত হবে মেয়েটির! তার থেকে বছর দশ বেশি হবে হয়ত।
‘কি হলো? দাঁড়িয়ে আছেন কেন? টাকাটা নিন।’
মেয়েটি টাকাটা ধরিয়ে দিল তার হাতে।
‘আপনার নাম কী বোন?’ প্রশ্ন করলো রনো।
সে হাসি মুখে উত্তর দিলো, ‘সুমি।’
মেয়েটি আবার রনোর চোখের দিকে তাকিয়ে দেখল।আবারো অবাক হয়ে গেল। সত্যিই কী আছে? না বুঝলাম না। জটিল রহস্য।

৬।
তিশার ফোনে রিং বেজেই যাচ্ছে কিন্তু ফোন ধরছে না সে। কিন্তু বারবার মোবাইল টা বেজে উঠছে। এবার তার ফোনে একটা এমএমএস এ ভিডিও আসলো। সে কৌতূহল বসত ভিডিও চালু করতেই অনেক বড় ধাক্কা খেল। আবার ফোন বেজে উঠলো। এবার ফোন ধরেই সে কেঁদে ফেললো, ‘প্লিজ এমন করবেন না।’
‘কি করেছি আমি সোনা।’
‘প্লিজ আপনার পায়ে পড়ি আমি। ভিডিও টি ডিলেট করে দিন।’
‘এতটা প্লানিং করে, নাটক করে কতো পরিশ্রম করে ভিডিও ক্লিপটি বানালাম বলো। এখন ডিলেট করে দেব? হাহাহা।’
‘কি চান আপনি?’
‘কিছু না আসলে গাড়িতে না ঠিক মতো স্পেস ছিলো না। তাই একবার হোটেলে আসতে হবে।’
‘কি পেয়েছেন আমাকে? আমি কি রাস্তার মেয়ে নাকি ? আমার জীবন তো ধ্বংস করেই দিয়েছেন । আমি কী ক্ষতি করেছি আপনার? কি দোষ ছিল আমার?’
‘তোমার কোনো দোষ একটাই তুমি সুন্দরী। আর আমার নেশা একটাই তোমার মতো মেয়েকে ভোগ করা।’ পৈশাচিক হাসি হাসতে লাগলো জুয়েল স্যার।
‘আমি জীবনেও পারবো না। তোর মতো শয়তান কে আমি পুলিশে দেব।’
‘না না না। সে ভুল মোটেও করতে যেও না। বাংলাদেশে ভিডিও খুব দ্রুত ভাইরাল হয়।’ আবার সেই হাসি হেসে উঠলো সে।
সেই হাসির কম্পনে অন্তর আত্মা কেঁপে উঠলো তিশার। ফোন কেটে ফেলে দিল সে। কান্নার বাধন ভেঙে বান আসলো তার চোখে। এখন কী করবে সে। রনো কেও ফোনে পাওয়া যাচ্ছে না।
ভিডিও টি ভাইরাল হতে সত্যিই বেশি সময় লাগে নি। তিশার ও বেশি সময় লাগে নি এক বোতল বিষের শিশি জোগাড় করে ফেলতে।
পুরো বোতলের শেষ বিন্দু বিষ সে গিলে নিয়েছে। জ্বলে পুড়ে যাচ্ছে যেন। খুব কড়া ডোজ।
মৃত্যুকে যখন সে অনেক কাছ থেকে অনুভব করছে ঠিক তখন মোবাইল স্ক্রিনে ভেসে উঠলো রনোর নাম টা। সে হয়ত সব জেনে গেছে। কি উত্তর দেব তাকে? তাও ফোন রিসিব করলো তিশা। মৃত্যু তো বেশি দূরে না। এখন আর কিই বা আছে। কোনো কথা বলতে পারেনি সেদিন। কথা বলার সময় সে পাইনি। অনেক কষ্টে একবার ও শেষবারের মতো বলেছিল, ‘ভালোবাসি।’ রনো কিছু টের পাওয়ার আগেই নিশ্চুপ হয়ে গেল ঐ পাশের মানুষটি।

৭।
“দিন কেটে গেছে, মাস ফুরিয়ে গেছে।
প্রতিরাত যে জেগে কাটাত,
সেও হয়তো মরন ঘুম পেয়ে গেছে।”

বাজারের পাশ দিয়ে হেটে যাচ্ছিল রনো। কিছু ছেলেরা সেখানে তাদের আড্ডা বসিয়ে গল্প গুজব ও অশ্লিল কথা বার্তায় মেতে ছিল।
‘ভাই, ভিডিও টা দেখ। কত বার দেখেছি, আর…! তাও বার বার ফ্রেস মনে হয়। তিশা আসলেই এক পিচ ছিলো।’
‘কত ঘুরেছিলাম ওর পেছনে, ভাও দেয় নি। শেষে দেখ কি হলো। হা হা হা।’
‘ভাগ্য হলো জুয়েল স্যারের। সে তো পুরাই ফুর্তি করে নিলো।’
‘হ্যা। এখন আবার দেখি নতুন পাখি নিয়ে ঘুরছে। আমাদের আর কি এই ভিডিও দেখেই দিন কাটাতে হবে।’
দলের মেইন হারামি রনি এবার বললো, ‘তিশার সুইসাইড করা উচিত হয় নি। স্যার ফেলে দিল তো কী! আমি তো ছিলাম।’ তার ইঙ্গিত বুঝতে পেরে দলের সবাই অট্টহাসিতে মেতে উঠলো। পাশ থেকে সরে গেল কালো ছায়াটি।
আড্ডা শেষে বাড়ি ফিরতে ছিলো তারা। রনির সাথে আরো দুজন ছিল। তিন রাস্তার মোড়ে দুজন অন্য রাস্তা ধরলো। আর সে হেটে চলো অন্ধকার গলি দিয়ে। লেম্প পোস্টের আলো নেই এখানে। হয়ত লেম্প পোস্ট নষ্ট হয়েছে অনেক দিন আগে। আর সারান হয় নি। কালো ছায়াটি পিছু নিয়েছে রনির। কিন্তু গাঞ্জার নেশায় লালচে চোখে রনি কিছুই বুঝতে পারেনা। একটা হাত রনির কাধে পড়লো। সে পেছন ফিরে তাকিয়েই ভয় পেয়ে গেল। অন্ধকারে কিছু দেখা যায় না। কিন্তু হঠাৎ যেন আকাশের গায়ের মেঘ গুলো সরে গিয়ে চাদের আলো ভেসে উঠলো। আর চকচক করে উঠলো তার হাতের নাইফ টা। মনে হচ্ছে আজকেই সান দিয়ে ধারালো করা হয়েছে। কোরবানির আগে যেমন ছুরি, দাড়াশি ধার দেওয়া হয়। রনি চিন্তায় কারি ভেবেছিল। তাই সে বলতে গেলো, ‘আমার কাছে যা টাকা আছে নিয়ে ছেড়ে দিন আমাকে।’ কিন্তু মুখ খুলতেই ধারালো ছুরি টা চালিয়ে দিলো রনো। জিহ্বা কেটে পড়ে গেল সাথে সাথে। রক্তে ভরে গেল তার মুখ। যেন কোনো সর্গীয় সুখ পেয়ে গেল রনো।

৮।
‘মা আমি একটু বাইরে যাচ্ছি। ফিরতে দেরি হবে।’, বলো জুয়েল স্যার।
‘কেন?’
‘একটু রিয়ার সাথে ঘুরতে যাবো। তুমি রফিককে গাড়ি বের করতে বলো।’
‘রফিক তো নেই।’
‘নেই মানে? গেছে কোথায়?’
‘জানি না। হঠাৎ করেই উধাও। আর আসেনা।’ বললেন জুয়েল স্যারের মা।
‘তাহলে আমি যাব কিভাবে?’
‘সমস্যা নেই অন্য ড্রাইভার পাওয়া গেছে। তাকে বলে দিচ্ছি।’ চলে গেলেন তার মা।

‘এই নাম কি তোমার?’ গাড়িতে বসতে বসতে প্রশ্ন করল জুয়েল স্যার।
ড্রাইভার সামনে তাকিয়েই বললো, ‘মুস্তাফিজুর রহমান!’
‘তা মুস্তাফিজ, বাড়তে কে কে আছেন?’
‘কেউ নেই।’
‘ও।’
একবারের জন্য গাড়ির ব্যাক ভিউ মিররে তাকিয়ে দেখতে পেল সামনের মানুষটিকে। বয়স কম কিন্তু কেমন গম্ভীর চেহারা। আর কথা আগানো গেল না। গাড়ি চলে এসেছে নির্দিষ্ট ঠিকানায়। গাড়িতে উঠে পড়লো একটি অল্প বয়েসি মেয়ে। অনেক সুন্দরী। জুয়েল স্যার গাড়ি হাইওয়ের দিকে নিতে বললেন।

গাড়ি হাইওয়ের ফাঁকা রোডে পৌছাতেই জুয়েল স্যার তার কাজ শুরু করতে উদ্যত হলেন। কিন্তু হঠাৎ গাড়ির গতি আগের মতো বেড়ে গেল। জুয়েল স্যার খুশিই হলেন। এই ছোকড়া আর যায় হোক কাজের আছে। কিন্তু তার ভুল ভেঙে গেল, গাড়ি যখন হাইওয়ে থেকে নেমে কোনো এক শুনশান এলাকায় থেমে গেল। সামনে থেকে নেমে এসে গাড়ির দরজা খুলে দিল রনো।
‘এই কি সমস্যা তোর?’ চিৎকার করে উঠলো জুয়েল স্যার।
‘সমস্যা এবার আপনার হবে স্যার।’

৯।
জ্ঞান ফিরলে নিজেকে একটা চেয়ারে বাঁধা আবিষ্কার করলেন জুয়েল স্যার। তার হাত, পা ও শরীর দড়ি দিয়ে শক্ত করে বাঁধা। তিনি যতই নিজেকে ছাড়াতে চেষ্টা করলেন মজবুত লাইলনের রসি তার মাংস কেটে আরো বসে গেল। ব্যাথায় কুঁকড়ে উঠলেন তিনি। অনুভব করলেন তার শরীরে প্রচন্ড ব্যথা মনে হচ্ছে তার সব গুলো হাড় আলাদা আলাদা করে ভেঙে ফেলা হয়েছে। একটা বিকট আর্তনাদ করে উঠলেন তিনি।
‘তাহলে শিক্ষক সাহেব। জ্ঞান ফিরেছে আপনার। আমি তো ভেবেছিলাম মারায় গেছেন।’
রাগে হিশ হিশ করে উঠলো জুয়েল।
‘আসলে শয়তানের মৃত্যু সহজে হয় না। ভালো মানুষেরা দ্রুত মারা যায়।’ রনোর মুখে রহস্যের হাসি দেখা গেল।

‘কী ব্যপার খুব হাসছো যে! অনেক খুশি নাকি।’
‘হ্যা মায়া! অনেক । হাহাহা।’
জুয়েল স্যার ভয় পেয়ে গেলেন। এই কার সাথে কথা বলছিস তুই? কে তুই? রুমে কেউ ছিলো না। শূধু তারা দুইজন। কারো কথা সে শুনতে পাইনি। তবুও সে সামনের রক্ত চোখে তাকানো ছেলেটাকে কথা বলতে দেখছে। পাগল নাকি?
রনো অনবরত বলে যাচ্ছে,

” সমুদ্রের ঢেউ অপেক্ষায় আছে,
সাইক্লোন হয়ে তীরে আছড়ে পড়ার।

রক্তিম সূর্য অপেক্ষায় আছে,
ধ্বংস ডেকে অস্ত যাওয়ার।

জীবনের রেখাও থরথরিয়ে কেঁপে উঠবে।
ভোজ হবে আজ, মাংস ভোজ।
মানুষ রূপি পশুর মাংস ।”

‘তুমি এখনো কবিতা লেখ?’
‘না ছেড়ে দিয়েছি। এটা কবিতা ছিলো না। মৃত্যুর আগে ওকে একটু ভয় দেখালাম। ‘
টেবিলে গাথা ছিলো ছুরিটা। জানালা দিয়ে চাঁদের আলো এসে পড়েছে তার ওপর। আলোর প্রতিফলনে দেখতে পাচ্ছে ছুরিটার লোভী চকচকে রূপ। বাহ! কি অপরূপ সুন্দর তাই না? ‘যাও শুরু করো।’ রনো আরাম করে পা তুলে বসল। সে যেন দেখতে পেলো ছুরিটা একাই শুন্ যে উঠে এগিয়ে যাচ্ছে চেয়ারে বাঁধা তার শিকারের দিকে। হঠাৎ সে ইশারায় থামিয়ে দিল তাকে। নিজে গিয়ে ছুরিটা ধরলো সে।
‘এই চোখে তোর বিষাক্ত নজর দিস।’ আমি উপড়ে নেব এই চোখ। নিজের মৃত্যু নিজেই দেখতে পারবি না তুই। কছ কছ করে দুটি চোখের কোটর খালি হয়ে গেল।
শূন্যে থাকা হাতে চলে গেল ছুরিটা । জুয়েল স্যার শুধু বুঝতে পারলেন ছুরি তার অঙ্গ ফেড়ে ডুকে যাচ্ছে। আবার বের হচ্ছে। মৃত্যুর যন্ত্রণা কত ভয়াবহ সে বোঝার আগেই মারা গেল মনে হয়। ছিন্ন বিচ্ছিন দেহ পড়ে রইলো তার। রনো অনেক সময় ধরে পাশের আবর্জনার স্তূপে খাবার খোজা কুকুর গুলোর কান্না শুনতে পাচ্ছিলো। মনে মনে সে খুশি হলো। আবার কিছু পশু সেবা করা হবে।

©আজফার মুস্তাফিজ

ফেসবুক আইডিঃ  http://www.facebook.com/Azfar.Mustafiz.Writer

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here