শিশুদের দুরন্তপনা দেখার মধ্যে আমি এক ধরনের অদ্ভুত শান্তি লাভ করি। কারন, শিশু মন পবিত্র, আর পবিত্রতা সব সময় সর্ব মহলেই কাম্য। বর্তমান সময়ে আমাদের মন যেভাবে কলঙ্কিত, কলুষিত আর সংকীর্ণ তা দেখে মাঝে মাঝে মনে হয় আমাদের সকলের উচিত তার ভিতরের শিশু মনকে একবার করে জাগ্রত করে তার সাথে কথা বলা, সেই শিশু মনের সাথে অনেকটা সময় কাটানো। কি জানি! এমনটাও হতে পারে প্রত্যেকের এই নিজস্ব, শিশু মন হয়তবা যার যার নিচু, হীন মন মানসিকতার মধ্যে একটা পরিবর্তন সৃষ্টি করতে পারে।
এই সহজ সত্যি কথা বুঝতে কোন বিশেষজ্ঞ, কোন জ্ঞানী বা সব কিছু জানে বা বুঝে এমন কাউকে দরকার হয়না। সকলের নিজ নিজ মনকে প্রশ্ন করলেই উত্তর পাওয়া সম্ভব। আর মনের কথা শুনতে তো কোন দোষ নেই। নিজের মনকে নিজেকেই বুঝে নিতে হয়, অন্য কারো মনের দায়িত্ব কেউ নিতে চায়না। নিজের মনের ভাল দিকটার কথা কেউ মনে করিয়ে দেয়না। নিজে থেকে যদি না চাওয়া হয় তবে মন পড়ে থাকবে অযত্নে আর অবহেলায়।
মূল কথা হলো, এই সমাজের কলুষিত মন, হীণ মন মানসিকতা। অনেক উপায় অবলম্বন করে ও যখন আমাদের এই সমাজকে পরিবর্তন করা যাচ্ছেনা তখন অন্যতম একটি উপায় হতে পারে প্রত্যেকের সাথে তার নিজ নিজ শিশু মনের সাক্ষাৎ। কতটা পবিত্র ছিল সেই মন, সেই মন দিয়ে সব কিছু ইতিবাচক ভাবে দেখা হতো। যখন কোথাও কোন অন্যায় হতে দেখা গেছে সেই শিশু মন অজান্তেই তার প্রতিবাদ করেছে, মনে মনে ভেবেছে এই অন্যায়কে বড় হয়ে বদলে দিবে। কারন শিশু মনের চিন্তা বা স্বপ্ন দুইটাই থাকে পবিত্র। সেখানে অসৎ কিছুর স্থান নেই। যত বড় হতে থাকে, তত মানুষের মধ্যে দুষিত সমাজের বাতাস বইতে থাকে।
কিন্তু আজকাল মানুষ এতটাই অমানুষ, বর্বর আর পাষণ্ড যে, দুনিয়া তাদের এতটাই লোভী আর কুরুচিপূর্ণ করে তুলেছে যে শিশু মনে ফিরে যেতে ইচ্ছে করার জন্য যে মানসিকতা বা সময়ের দরকার তাও তাদের মাঝে নেই, এটাই বাস্তবতা।
আর সভ্যতা এখন এতটাই উড়ন্ত, দুরন্ত যে তা বাতাসে উড়তে উড়তে, দুমড়ায়- মুচড়ায় বিকৃত হয়ে শিশু মনেও প্রবেশ করে ফেলেছে। আজকের দিনে শিশু মন ও অহংকারী, লোভী বা প্রতিযোগিতা মূলক। তাদের মন ও এখন প্রতিহিংসা পরায়ন। তারা ও শিখে যাচ্ছে কিভাবে টিকে থাকতে হবে। কিন্তু সমাজের এই ভাইরাস বাতাস শিশুদের কাছে এখনই সংক্রমিত হয়ে যায়নি, মাত্র আক্রান্ত হচ্ছে। তাই এখন ও এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণের উপায় আছে।
আমার মনে হয়, শিশু মন নির্মল, চপল, পবিত্র আর শুদ্ধ। যেখানে অরাজকতা, রাহাজানির কোন স্থান থাকতে পারে না। শিশু মনটা বা শিশুরা ঠিক যেন সকালের পাখির আওয়াজ আর নির্মল বাতাস। কারন দুইটা জিনিসই মন ভাল করার সবচেয়ে ভাল পন্থা। আমার নিজস্ব মতামত আর অভিজ্ঞতা বলে আমার জীবনের অনুপ্রেরনায় সকালের ডাকা পাখি আর শিশু মন দুইটাই কার্যকরী।
আমাদের উচিত হবে আমাদের শিশু মনকে যত্ন নিয়ে গড়ে তোলা। কিন্তু আজকের দিনে সেটা প্রায় অসম্ভব। কারন গড়ে তোলার জন্য যোগ্য কারিগরের দরকার, কিন্তু আমাদের মধ্যে আজ সেই যোগ্য কারিগরের অভাব অনেক বেশি বোধ হচ্ছে।
নরম কাদামাটিকে আমরা যেভাবে খুশি তৈরি করতে পারি,আর যদি সেটা না পারি তবে তা আমাদের অযোগ্যতা।
শিশু মন নরম কাদা মাটি, তাকে সুন্দর করে গড়তে না পারলে তা আমাদের ব্যর্থতা ছাড়া আর কিছুই নয়।
বর্তমান সময়ে দাড়িয়ে আমাদের সবার একটাই কথা বা কাম্য,
“ মানসিকতার পরিবর্তন অনস্বীকার্য, নয়ত আমাদের সামনের দিন গুলো আমাদের জন্য অনেক খারাপ কিছু নিয়ে আসবে।’’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here