লক্ষ্য থাকা আর তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করা এক জিনিস নয়। নিজের লক্ষ্যকে বাস্তবে রূপ দিতে আমরা সবাই পারি না। আর যারা পারে না তাদের ভাগ্য খারাপ- এই কথা বলার চেয়ে যারা বাস্তবে রূপ দিতে পারে তাদের জয়ী হওয়ার গল্পটাই আমাদের কাছে বেশি গ্রহণযোগ্যতা পায়।

যেমন ধরা যাক, একটা আম গাছে সাধারণত অনেকগুলো আমের মুকুল আসে- এই কথা আমরা কতজন মনে রাখি? তেমনভাবে কেউই মনে রাখে না। কারণ সব মুকুল টিকে থাকে না, তাই আমরা মনেও রাখি না। ঝড়বৃষ্টি আর সমস্ত প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করে যেসব মুকুল থেকে আম হয়, যে আমগুলো আমরা খেতে পারি, শেষপর্যন্ত ঐসব মুকুল আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পায়।

কারণ তারা মুকুল থেকে আম হতে পেরেছে, আমরা উপকৃত হয়েছি আর মুকুলগুলো সফলতা পেয়েছে। তাই আমরাও তার সফলতা মনে রেখেছি আর গাছে আমের পরিমাণ নিয়ে গল্প করি। এই হচ্ছে আমাদের সমাজের বাস্তবতা। সমাজের সবক্ষেত্রেই এ ধরনের দৃশ্য দেখা যায়।

আমাদের আশেপাশে জীবন সংগ্রামে লড়াইয়ে টিকে থাকতে না পারা মানুষেরা আমাদের কারও নজরে থাকে না। লড়াইয়ে টিকে থাকার যে ইচ্ছেটা তাদের মাঝে থাকে, টিকে থাকতে যে লড়াই তারা করে যায়, তা পূর্ণতা পায় না। কারণ তারা শেষ পর্যন্ত লড়াইয়ে টিকে ছিল না। ঠিক এই কারণে তাদের এই লড়াই ষোল আনাই মিথ্যা হয়ে যায়।

এই দুনিয়া লড়াই করে টিকে থাকাদের যায়গা, আশেপাশের সবাই মিলে এ দুনিয়াকে যোগ্যদের বসবাসযোগ্য করে দিয়েছে। যোগ্যতার লড়াইয়ে কেউ এক কদম পিছিয়ে পড়লে তাকে সবাই মিলে অনেক দূরে রেখে আসে। সেখান থেকে উঠে আসতে অনেক সময়ের দরকার আর লড়াইয়ের প্রয়োজন হয়, যা সবার পক্ষে সম্ভব হয় না।

ঝড়বৃষ্টি থেকে বাঁচতে সবাই দৌড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে চায়। সমস্ত প্রতিকূলতাকে জয় করে যে এগিয়ে যেতে পারে, শেষ হাসিটা সে হাসতে পারে। বিজয়ের হাসি হাসার পর মানুষ হয়তো তার সব কষ্টই ভুলে যায়।

জীবনে অনেক ঘাত-প্রতিঘাত আসবে কারণ লক্ষ্যপূরণের রাস্তা কোন দিন সহজ হয় না, সহজে পাওয়া কোন কিছুতে যথার্থ সুখটা পাওয়া যায় না। এই দুনিয়াকে উপভোগ করতে চাইলে সবকিছুকে মেনে নিয়ে লড়াই করে টিকে থাকতে হবে।

বিনা লড়াইয়ে ময়দান ছাড়লে আর যাই হোক জীবনের সার্থকতা কোনদিনও আসবে না। জীবন তো একটাই। পৃথিবীতে একবারই আসবে সবাই। কেন মানুষ সেটা উপভোগ না করে থেমে যেতে যায়? কেন মুখ লুকিয়ে নিজের পরাজয়কে স্বীকার করে নেয়? কেন মানুষ চায় না জীবনের স্বাদ আস্বাদন করতে?

অনেক বাধা, প্রতিকূলতা, রোমাঞ্চ, অভিজ্ঞতা, ব্যর্থতা যদি না আসে তাহলে সেই জীবন কিছুতেই উপভোগ্য জীবন নয়।

এখন তাহলে ফিরে যাই পুরনো বাগধারাতে, “ভোগেই আসলে সুখ পাওয়া যায় না, সুখ সর্বত্র বিরাজমান, তা খুঁজে নিতে হয় আমাদের।”

সফল হতে হলে বেশি জানতে হয় ব্যর্থদের গল্প, যাতে করে সেখান থেকে শিক্ষা নেয়া যায়। আর যারা সফল তাদের পাশাপাশি ব্যর্থদের ও প্রশংসা করা উচিত। কেননা, তারা অন্তত চেষ্টা করেছে। হয়তো কোন একদিন সফল হয়েও যেতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here