হযরত মুহাম্মদ(স)-এর মদিনা সনদ:

ইসলামের সুমহান বাণী প্রচারের জন্য হযরত মুহাম্মদ(স) প্ৰিয় মাতৃভূমি মক্কা ছেড়ে মদিনায় অবস্থান করলে মদিনাবাসী তাঁকে সাদরে গ্রহণ করে। নবীজির এই আগমন স্মরণীয় করে রাখার জন্য নগরীর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়’ মদিনাতুননবী’ যার অর্থ নবীর শহর। মুহাম্মদ(স) এর হিজরতের সময় মদিনার রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থা ছিল শোচনীয়।তাই তিনি এখানকার আর্থ -সামাজিক ও রাজনৈতিক উন্নয়নে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।

মসজিদ নির্মাণ: মদিনায় গিয়ে তিনি প্রথমে একটি মসজিদ নির্মাণ করেন, ইসলামের ইতিহাসে এটিই প্রথম মসজিদ যা মসজিদে নববী নামে পরিচিত। এখান থেকেই মহানবী(স) তাঁর ধর্মীয়,সামাজিক ও রাজনৈতিক কাজগুলো সম্পন্ন করতেন।

সুশৃঙ্খল সমাজ গঠন: মহানবী(স) মদিনার আওস ও খাজরাজ গোত্রের মধ্যে চলমান শত্রুতার অবসান ঘটিয়ে ভাতৃত্বের সৃষ্টি করেন।

বিভিন্ন ধর্মীয় রীতি প্রবর্তন: মদিনায় হিজরতের পর তিনি কিছু ধর্মীয় রীতি প্রবর্তন করেন।হযরত ওমর(রা) এবং অন্যান্য সাহাবীদের সমর্থনে আজানের রীতি চালু করা হয়। এসময় দৈনিক পাঁচবার সালাত আদায়, জুমার সালাতের আগে খুতবা পাঠ ইত্যাদি নিয়ম প্রচলন করেন।

মদিনা সনদ ও রাষ্ট্র গঠন: মহানবী(স) তাঁর রাজনৈতিক দূরদর্শিতার মাধ্যমে বুঝতে পেরেছিলেন, মদিনা ও আশপাশে বসবাসকারী মুসলিম, ইহুদী,খ্রিস্টান ও পৌত্তলিকদের মধ্যে সদ্ভাব ও সম্প্রীতির বন্ধন তৈরী করতে হবে। তা না হলে একটি সুসংহত রাষ্ট্র গঠন সম্ভব নয়। তাই তিনি মদিনায় বসবাসরত সব জাতিধর্মের মানুষকে নিয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ জাতি গঠনের লক্ষ্যে ৬২২ খ্রিস্টাব্দে একটি সনদ প্রণয়ন করেন। ইসলামের ইতিহাসে এটি’ মদীনা সনদ’ নামে পরিচিত। বর্ণনামতে এই সনদের ৫৩ টি ধারা রয়েছে, প্রধান কিছু ধারা ছিল নিন্মরূপ:

১.সনদে স্বাক্ষরকারী সব সম্প্রদায় একটি সাধারণ জাতি গঠন করবে এবং সবাই সমান নাগরিক অধিকার ভোগ করবে।
২.কেউ কারো ধর্মে হস্তক্ষেপ করবে না, সবাই নিজ নিজ ধর্ম পালন করবে।
৩. মদিনা নগরীকে পবিত্র ঘোষণা করা হলো এবং সকল প্রকার রক্তপাত ,হত্যা ও অপরাধ নিষিদ্ধ করা হলো।
৪.অপরাধীকে উপযুক্ত শাস্তি ভোগ করতে হবে।      ৫.কোনো ইহুদি মুসলমান হলে তার জন্যে সাহায্য ও মর্যাদা অক্ষুণ্ন থাকবে।
৬.হযরত মুহাম্মদ(স) এর অনুমতি ছাড়া মদীনাবাসী কারো বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে পারবে না।

মদিনা সনদের গুরুত্ব: ইসলামের ইতিহাসে মদিনা সনদের গুরত্ব অপরিসীম। এটি ছিল প্রথম লিখিত সংবিধান যার মাধ্যমে রাজনৈতিক ঐক্য ও ইসলামী শাসন প্রতিষ্টার মাধ্যমে ইসলামের প্রচার ও প্রসার বৃদ্ধি পায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here