লেখক, পদার্থবিদ ও শিক্ষাবিদ ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল জন্মগ্রহণ করেন ১৯৫২ সালের ২৩ ডিসেম্বর, সিলেটে। তার বাবা মুক্তিযুদ্ধে শহীদ পুলিশ কর্মকর্তা ফয়জুর রহমান আহমেদ, মা আয়েশা আখতার খাতুন। আয়েশা ফয়েজ নামে তিনিও লেখালেখি করেন। বড় ভাই প্রয়াত কথাসহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ। আর ছোট ভাই আহসান হাবীব রম্য ম্যাগাজিন ‘উন্মাদ’-এর সম্পাদক, লেখক ও কার্টুনিস্ট। তার স্ত্রী ড. ইয়াসমিন হক শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষকতা করছেন। তিনি ২০০৪ সালে প্রাপ্ত বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কার পেয়েছেন।
আজকের লেখা এই বিখ্যাত লেখক জাফর ইকবালকে নিয়েঃ
১/ ড. জাফর ইকবাল বিশ্ববিদ্যালয় জীবন থেকেই লেখালেখি করেন। তার প্রথম সায়েন্স ফিকশন গল্প কপোট্রনিক ভালোবাসা সাপ্তাহিক বিচিত্রায় প্রকাশিত হয়েছিল। লেখকের প্রথম দিককার বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীগুলো পাঠকমহলে সমাদৃত হয়। সুদূর আমেরিকাতে বসে তিনি বেশ কয়েকটি সায়েন্স ফিকশন রচনা করেন।
২/ ড. জাফর ইকবাল ১৯৭২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। ১৯৭৫ ও ১৯৭৬ সালে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৭৫ সালে অনার্স-এ দুই নম্বরের ব্যবধানে প্রথম শ্রেণিতে ২য় স্থান অধিকার করেন।
৩/ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার পাশাপাশি গণকণ্ঠ পত্রিকায় কার্টুন একে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে প্রথম হাত খরচ মেটানোর চেষ্টা করতেন। মহাকাশে মহাত্রাস নামে তার কার্টুন স্ট্রিপ নিয়মিত প্রকাশিত হত।
৪/ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় তিনি টেলিভিশনে বিজ্ঞান বিষয়ক এক অনুষ্ঠান করতেন। তখন হলের এক বন্ধুর ভালো শার্ট পরে শ্যুটিং করতে যেতেন।
৫/ কার্জন হলে পদার্থবিজ্ঞান ক্লাস চলাকালীন তার ঘুমিয়ে পড়ার কথা তিনি নিজের বইয়ে স্বীকার করেছেন। কথিত রয়েছে, তিনি এক প্যাকেট গোল্ড ফ্ল্যাক সিগারেটের বিনিময়ে আর্টস বিল্ডিং থেকে কার্জন হলে হাত দেখে মানুষের ভাগ্য বলে দিতেন।
৬/ ১৯৭৫ সালের দিকে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে পত্রিকায় শহীদ বাবাকে নিয়ে একটি আর্টিকেল লিখেছিলেন তিনি। লেখাটি প্রকাশের কিছুদিন পরেই বাংলা সাহিত্যের আরেক স্তম্ভ আহমেদ ছফার সঙ্গে তার রাস্তায় দেখা। তিনি জাফর ইকবালের রিকশা থামিয়ে বললেন, “তোমার লেখাটা আমার ভালো লেগেছে। নাও, এক টাকা নাও।” লেখালেখি থেকে সেটিই তার প্রথম উপার্জন।
৭/ আগে নামের বানানে তিনি ‘মোহাম্মদ’ লিখতেন। আহমেদ ছফা তাকে বললেন, “এভাবে লিখলে চলবে না। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ যেভাবে লেখে সেভাবে লেখো।” তারপর থেকে নিজের নামের বানানে ‘মুহম্মদ জাফর ইকবাল’ লিখতে শুরু করেন।
৮/ তিনি ১৯৮২ সালে ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করে ১৯৮২ থেকে ১৯৮৮ পর্যন্ত ক্যালিফোর্নিয়া ইনিস্টিটিউট অফ টেকনোলজিতে সাফল্যের সঙ্গে ডক্টরেটোত্তর গবেষণা সম্পন্ন করেন। ১৯৮৮তে তিনি বিখ্যাত বেল কমিউনিকেশনস রিসার্চ (বেলকোর) গবেষক হিসাবে যোগদান করেন এবং ১৯৯৪ পর্যন্ত সেখানেই কাজ করেন।
৯/ ১৯৯৪ সালে প্রবাস জীবনের ইতি টেনে দেশে ফিরে মুহম্মদ জাফর ইকবাল অধ্যাপক হিসেবে সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগে যোগ দেন। বাংলাদেশে প্রথম কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ফাইবার অপটিক ইন্টারনেট ব্যাকবোন নির্মিত হয় তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here