আহমেদ ছফা একজন গল্পকার। তিনি অত্যন্ত মেধাসম্পন্ন একজন সুপাঠ্য লেখক। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ চিন্তাবিদ, জাতির শিক্ষক ও জাতির দর্পণ হিসেবে আহমদ ছফাকে অভিহিত করা হয়। তিনি ছিলেন শোষিত মানুষের পক্ষে এক বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর।
অনেকেই আহমদ ছফাকে প্রাবন্ধিক হিসেবে দেখলেও তিনি ছিলেন বহুমাত্রিক লেখক। তিনি ছিলেন একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, চিন্তাবিদ ও বিশিষ্ট কলামিস্ট। তাঁর লেখায় বাংলাদেশি জাতিসত্তার পরিচয় নির্ধারণ প্রাধান্য পেয়েছে।
তার জন্ম ১৯৪৩ সালের ৩০ জুন। পিতা হেদায়েত আলী এবং মাতা আসিয়া খাতুন। দুই ভাই ও চার বোনের মধ্যে আহমদ ছফা ছিলেন দ্বিতীয়। ২০০১ সালের ২৮ জুলাই অসুস্থ অবস্থায় ঢাকা কমিউনিটি হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। পরদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদে জানাজা শেষে মিরপুরের বুদ্ধিজীবী গোরস্থানে তার দাফন হয়।
আজকের লিখা আহমেদ ছফাকে নিয়েঃ
1/ ১৯৬৭ সালে প্রকাশিত হয় আহমদ ছফার প্রথম উপন্যাস ‘সূর্য তুমি সাথী’। বক্তব্যের স্পষ্টতা আর তীব্রতার জন্য খুব দ্রুত পাঠকদের মাঝে সাড়া ফেলে দেন তিনি।
2/ আহমেদ ছফার লেখা ৫টি বিখ্যাত বই হচ্ছে- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বর, ওঙ্কার, গাভী বৃত্তান্ত, যদ্যপি আমার গুরু, বাঙালি মুসলমানের মন।
3/ ১৯৭০ সালে আহমেদ শরীফের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘বাংলাদেশ লেখক শিবির’, তিনি ছিলেন সংগঠনটির প্রথম সভাপতি। তার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল প্রগতিশীল লেখকদের আন্দোলনকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। ব্যক্তিত্বের ছটায় তরুণ প্রজন্মের কাছে খুব সহজেই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন আহমেদ ছফা।
4/ একই বছর বাংলা একাডেমির পিএইচডি গবেষণার জন্য তিনি মনোনিত হন। যা তাকে পরবর্তীতে মধ্যবিত্ত জীবন নিয়ে লিখতে উৎসাহ ও উদ্দীপনা যোগায়।
5/ ১৯৮৬ সালে জার্মান সরকার তাকে গ্যাটে ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে একটি গবেষণা বৃত্তি দেয়। এই বৃত্তি তাকে পরবর্তীতে জার্মান ভাষায় দক্ষ করে তোলে এবং গ্যাটের বিখ্যাত গ্রন্থ ফাউস্ট বাংলা ভাষায় অনুবাদ করতে উৎসাহ যোগায়।
6/ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকা অবস্থায় তরুণ কবি আবুল হাসানের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য পুনঃভর্তি হওয়ার দরকার ছিল। কিন্তু আবুল হাসানের হাতে তখন কোনো টাকা ছিল না। আহমদ ছফা বিষয়টি জানতে পারেন। তখন আহমদ ছফা নিজের বই প্রকাশের ‘রয়্যালিটির’ টাকা আবুল হাসানের হাতে তুলে দিয়েছিলেন পুনঃভর্তি হতে।
7/ মুহম্মদ জাফর ইকবাল বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন পড়াশোনা করছিলেন তখন তাদের পরিবারে অর্থকষ্ট ছিল। সেই সময় আহমদ ছফা মুহম্মদ জাফর ইকবালকে ‘গণকণ্ঠ’ পত্রিকা অফিসে নিয়ে গিয়ে কার্টুনিস্টের কাজ জুগিয়ে দিয়েছিলেন।
8/ ১৯৭৫-এ তরুণ কবি নির্মলেন্দু গুণকে অজ্ঞাত কারণে আর্মি গ্রেফতার করে রমনা থানা হাজতে কাস্টোডিয়ান হিসেবে জমা দিয়ে গিয়েছিল। এই খবর পাওয়া মাত্র নির্মলেন্দু গুণকে ছাড়াতে থানায় ছুটে গিয়েছিলেন আহমদ ছফা। নির্মলেন্দু গুণকে ছেড়ে দিতে তিনি থানার ওসির সাথে বাগবিতণ্ডা পর্যন্ত করেন। সাত দিনের মধ্যেই নির্মলেন্দু গুণ ছাড়া পান।
9/ বাংলাদেশের অন্যতম সেরা বুদ্ধিজীবী আহমেদ ছফা ২০০২ সালে সাহিত্যে মরণোত্তর একুশে পদক লাভ করেন।

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here