অনেক কালের অলীক সখ্য

তাসীন

মৃতবৎ একটা নদীর পারে আমি প্রায়ই যাই
সঙ্গে তেমন কেউ থাকে না, শুধু থাকে আমার
কম্পিত প্রতিচ্ছায়া আর ক্লান্তিতে জড়ানো অন্তরাত্মাটা।

যেয়ে অবধি নদীর ক্ষীয়মান জলরাশির দিকে
তাকিয়ে থেকে মনে একটা উদাস ভাব চলে আসে,
মনে হয় যেন নদীর –
এই কালোজলে আমি ভাসছি অনেককাল।
কিন্তু কবে থেকে তা আর ধরতে পারি না,
ধরতে না পারলেও মনের থেকে
ঐ উদাসিনতা কাঁটাতেও পারি না।

এই ঔদাসিন্যের মাঝেই নদীর আশেপাশে আমার
চোখ অনিচ্ছা সত্বেও ঘুড়ে যায়,
কোন একজনকে খোঁজে সে।কিন্তু কাকে ?
তাও আর বুঝতে পারিনা ।

আমি মুলত সায়হ্নকালেই এই নদীপারে আসি
এসে থেকেই পাড়ের এক কোনে এক উচু ঢিবির উপরে বসি।

মাঝে মধ্যে অবশ্য অনেক লোকসমাগম হয়
এই মরা তটিনীপাড়ে,
হরেক রকমের লোক,
হরেক রকমের তাদের কার্যকলাপ।
আমি ঐ ঢিপির উপরে বসে তাদের
ঐসব রঙ্গতামাশা উপভোগ করি ।

দেখতে বেশ লাগে।
কিন্তু এসবের মাঝেই ঐ লোকেদের ভিতর
আমার চোখ অনিচ্ছা সত্বেও ঘুরে যায় ,
কোন একজনকে খোঁজে সে,কিন্তু কাকে ?
তা সত্যিই বুঝতে পারিনা।

এই মরা নির্ঝারিনীর পারে এলেই কিছু অস্পষ্ট
ছবি চোখের কিনারে ভেসে উঠে,
মনে হয় খুব চেনা সেই ছবি,কিন্তু কিসের ছবি
তা অনুধাবন করতে পারি না।
ছবির ভাবনা ছেড়ে দেই,নদীর দিকে তাকাই ।
নদীর ক্ষীয়মান কালো জল একটু একটু করে বইছে,
জীবনের পরন্ত বেলার দ্বারপ্রান্তে আজ এই কল্লোলিনী।
এক কালে এই নদীরও তো ছিল ভরা যৌবন,
কত স্রোত বয়েছে এই নদীর পরে,কত মাঝি দাড় টেনেছে
এই নদীর বুকে।সবই আজ এই মৃতবৎ স্রোতস্বিনীর
গৌরবময় স্বৃতি।ভাবছি মানবজীবনও তো এই
নদীর মত একই সুরে বওয়া।

সব বিলীন হলেও স্বৃতি তো রয়ে যায়,
তাহলে কি ঐ ঔদাসিন্য,
ঐ অস্পষ্ট ছবি আমার ফেলে আসা দিনের প্রতিরূপ স্বরুপ?
যা এই মরা গাঙের দুর্দশা দেখে-
ভিতর থেকে ফেনিয়ে উঠতে চাচ্ছে ।
জানি না কিছুই।

শেষবেলায় যখন সূর্য অস্তাচলে গমন করছে
নদীকে বিদায় জানিয়ে উঠতে যাচ্ছি
,এমন সময় নিজের অলক্ষে চোখ চারপাশে ঘুরে যায়
কোন একজনকে খোঁজে সে।কিন্তু কাকে?
তা এই শেষবেলাতেও ধরতে পারি না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here