কেহ পর নয়।

কেহ পর নয়! কেহ পর নয়।
কেহ পর নয় যেথায় সকলে সকলের সহোদর হয়।

অখন্ড বিশ্বে অজানা আবির্ভাব।
জানে না কিছুই নেই তাহার ছলা,
আচ্ছাদন খুলিলেই শুরু হয় বলা।
কোন কুল,বংশ,গোত্র কিংবা জাতি?
তৎসম করে ইক্ষা,অভীপ্সা,উপরিস্থ আসন তাহার;
দ্যুতি তাহার আকাশতম,নয় যে সে হতবল;
জাতিবল তাহার হৃদয়তল।
কপালদোষে যদি হয় অপ্রভ তবে নূন্যতা,নগন্যতা,তাচ্ছিল্যতম অচল সে।
কেন?

পরমাত্মা কি তবে নয় জগৎ শ্রেষ্ঠ?
অক্ষম কি তাহার সম,সমতা গড়া?
নয়,নয় তো!তবে কেনো তিনি দৃশ্যমান করিবেন স্পৃষ্টতা।
তিনি স্রষ্টা,শ্রেষ্ঠ তাহার বিজ্ঞতা,তবেই বলিয়ে রহিয়াছেন তম ভ্রাতৃ হে সকলে।

কেহ পর নয় যেথায় সকলে সকলের সহোদর হয়।
পরম্পরাগত চিন্তা,বন্ধু;প্রগাঢ় একাত্বতা।
পরম্পরাগত চিন্তা,পরিবার;অভেদ ফলপ্রদ।
পরম্পরাগত চিন্তা,পরিজন;কোদল,ভ্রম থালিকেও বিপর্যস্ততায় নয় মুক্তকেশিন।

কেহ পর নয় যদি থাকে সম্প্রীতির উপদ্রব।
সন্তান পিতার জন্য পরম নিহার,
তাহার যুক্তি নয় রক্ত,রক্তের চেয়ে বেশি সত্য তাহার সম্প্রীতি,
ঊর্ধ্ব সময় ধরে নির্বাধ কাছে থাকাই তাহার উক্তি।
আপনি যাহার সাথে বেশি সময় কাটাবেন সেই আপনার প্রিয়জন।
তাই কেহ পর নয় যদি বেশি সময় কাটানো যায়।

কেহ পর নয় যদি মন দিয়ে ভালোবাসা যায়।
আজন্ম যদি কারো যত্নে মগ্ন থাকা যায়,
তবে তাহাই হইবে পিতৃ,মাতৃ।
জনক তো সৃষ্টির প্রতি যত্নশীল হবেই,
যেথাই কর্মফল বন্দী অসম্ভব স্মৃতির সন্ধি।
তাই কেহ পর নয় যেথায় অসম্ভব স্মৃতির সন্ধি রয়।

কৃপায় প্রস্তুত পুষ্প,কৃপায় গড়া ফুল।
যেথায় যত সময়,যত প্রীতি,যত যত্ন,
গড়ে তাহার সহিষ্ণুতায় ভালোবাসার রত্ন।
কেহ পর নয় যেথায় কৃপায় ফুল গড়া হয়।

কেহ পর নয়।সত্যি বলছি কেহ পর নয়।
ভালোবাসায় গিরি-শৈল-পাহাড় হয়।
কেহ পর নয় মিথ্যের ছোঁয়া তো নয়ই।
ধর্মালয় গড়ার কথা নজরুলের মুখের কথা নয়,
অন্তর ধর্মের বিশ্বাসে তা হয়।
কেহ পর নয় বদান্যতা দিয়েই এসব হয়।
বাছবিচার-প্রখ্যা-রিষ নেত্রতত্ত্ব,এসবে ছলনা হয় বংশকুল নয়।

কেহ পর নয় যদি মনুষ্য নিরুপম উন্নত হয়।
রাজপুত্র-রাজা,প্রজপুত্র-প্রজা দস্তুতে আবদ্ধ যদি না হয়ে যদি সম্প্রীত হয়।
কেহ পর নয় যেথায় সকলে সকলের সহোদর হয়,
হিংসা-অন্তর্দাহ-বৈরিতা দিয়ে নয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here