” The highest powers in our nature are our sense of moral excellence,the principle of reason and reflection,benevolence to our creatures and our love of the divine being “
                                      —  এডওয়ার্ড জেনার

এডওয়ার্ড জেনার

জীবশ্রেষ্ঠ মানুষ। বিজ্ঞানের ওপর ভর করে জল-স্থল-অন্তরীক্ষে অবাধ বিচরণ করে মানুষ তার জীবনযাত্রাকে ক্রমশ উন্নতির পথে নিয়েছে এবং নিচ্ছেও বটে।এই যাত্রায় মানুষের সুস্থতার পথে বাধা হয়েছে তারই বিবর্তনীয় আত্মীয়(সমগ্র জীবজগৎই আমাদের আত্মীয়-ডিএনএ’গত!) জীবাণুরা। লুই পাস্তুর,রবার্ট কচ প্রমুখ মহান বিজ্ঞানীদের বদৌলতে রোগের জীবাণুতত্ব(Germ Theory Of Disease) থেকে আমরা সে জ্ঞানই পাই!পৃথিবীতে মানুষের আবির্ভাবের অনেক আগে থেকেই জীবাণুরা ছিলো,তারা রোগ সৃষ্টি করেছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থাও গড়ে উঠেছে–আমাদের দেহেই তো চমৎকার তিনস্তরী রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা রয়েছে! তারপরেও কী জীবাণুরা বসে আছে? নেই। তারাও হয়তো দল বেঁধে(প্যাথোলজির ভাষায় বললে হয়তো বলতে হবে, ‘কলোনি’ বেঁধে!) স্লোগান দেয়,”আমাদের সংগ্রাম চলবেই,চলবে !” হ্যাঁ, চলুক। মানুষেরাও এনেছে ভ্যাকসিন,অ্যান্টিবায়োটিকের মতো অস্ত্র।ভ্যাকসিনের কথাই বলি।।শিশুর জন্মের এক বছরের মধ্যেই তাকে ছয়টি মারাত্মক রোগের ভ্যাকসিন(আমজনতার ভাষায়,টিকা!) দিয়ে রাখি আমরা-যক্ষ্মা, পোলিও, ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ইত্যাদি ইত্যাদি।ভ্যাকসিনেশনের সুবাদে “গুটিবসন্ত” এখন শুধুই একটা শব্দ হয়ে রয়েছে,একে আর আমরা রোগ বলি না, কারণ ১৯৭৯ সালে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা গুটিবসন্তকে অলরেডি Eradicated Disease ঘোষণা করেছে।

 

ভ্যাকসিনের আবিষ্কার যে কতো জীবাণুর হা-হুতাশ বাড়িয়ে কতো কোটি মানুষের প্রাণ রক্ষা করেছে তা ভাবতে পারেন?গুটিবসন্ত একসময় ছিলো মারাত্মক ছোঁয়াচে রোগ!এইতো,আমাদের বাংলাদেশেও একসময় বহু মানুষ বসন্তে মারা গেছে,আমাদের পাশের দেশ ভারতে ১৯৭০ সালে গুটি বসন্ত প্রায় ২০ হাজার মানুষের প্রাণ নিয়ে এমন মহামারী আকার ধারণ করেছিলো, যে ঐ সময়টা এখন ইতিহাসে The Harsh Smallpox Epidemic of India বলে আখ্যায়িত।

ভ্যাকসিন

বসন্ত মহামারীর করাল থাবার দৃশ্য!

 

যে মহান বিজ্ঞানীর আবিষ্কারের জন্য এরকম মহামারীর কথা আর আমরা কল্পনাতেও আনি না, তিনি হলেন এডওয়ার্ড জেনার।।

 

এডওয়ার্ড জেনারের জন্ম ১৭৪৯ সালে বৃটেনের গ্লস্টারশায়ারে, বার্কলেতে । তার বাবা স্টিফেন জেনার ছিলেন বার্কলের মাতব্বর শ্রেণীর লোকেদের একজন।বাবা মা’র অষ্টম সন্তান জেনারের বয়স যখন সবেমাত্র পাঁচ,তখন তার বাবা-মা দুজনেরই মৃত্যু হয়। এরপর তিনি তার বড় ভাইয়ের কাছে থাকতেন।স্কুলে পড়ার সময় থেকেই জেনারের আগ্রহ তৈরি হয় প্রকৃতি আর বিজ্ঞানের প্রতি।১৩ বছর বয়সে তাকে শিক্ষানবিশ হিসেবে সার্জন জর্জ হারউইক(George Harwicke) এর কাছে পাঠানো হয়, যেখানে তিনি নিজে সার্জন হিসেবে প্রয়োজনীয় সমস্ত শিক্ষা এবং অভিজ্ঞতা লাভ করেন ।একুশ বছর বয়স পর্যন্ত সেখানে শিক্ষা লাভের পর ১৭৭০ সালে তিনি লন্ডনে যান।সেখানে জন হান্টারের অধীনে সেন্ট জর্জ হসপিটালে তিনি সার্জারি ও অ্যানাটমি বিভাগে যোগদান করেন ।হান্টার ছিলেন ঐ সময়ে ইংল্যান্ডের খ্যাতিমান সার্জনদের একজন, একইসাথে ছিলেন একজন প্রাজ্ঞ বায়োলজিস্ট(মূলত ছিলেন একজন অ্যানাটমিস্ট,বা শারীরসংস্থানবিদ!)। তার সাথে জেনারের গড়ে উঠেছিলো গুরু-শিষ্যের এক মধুর সখ্যতা ।দুই বছর একসাথে অবস্থানকালে হান্টারের মাধ্যমে বিজ্ঞান(বিশেষত জুয়োলজি,বা প্রাণিবিদ্যা!) এবং বিজ্ঞান চর্চার প্রতি জেনারের আগ্রহ বহুগুণে বেড়ে যায়।

ভ্যাকসিনবার্কলের এই বাড়িতেই থাকতেন জেনার।

 

১৭৭৭ সালের দিকে জেনার বার্কলেতে ফিরে আসেন এবং একজন সফল ডাক্তার এবং সার্জন হিসেবে মানবসেবায় ব্রতী হন।অল্পসময়ের মধ্যেই, তার জ্ঞান, মেধা আর দক্ষতার সমন্বয়ে, জেনার একজন জনপ্রিয় সার্জন হিসেবে প্রতিষ্ঠা পান। তার পেশাগত কাজের পাশাপাশি, জেনার প্রকৃতি এবং প্রাকৃতিক রহস্যগুলি দ্বারা প্রবলভাবে আলোড়িত হতেন। প্রাকৃতিক বিজ্ঞান নিয়েও তিনি কাজ করতে থাকেন। ১৭৮৮ সালে এডওয়ার্ড জেনার পূর্বে প্রচলিত এক ভুল সংশোধন করে কোকিল পাখির আবাসন প্রক্রিয়া এবং শারীরবৃত্তীয় অভিযোজন সম্পর্কে তার পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষা ও গবেষণা প্রকাশ করেন।এই গবেষণা তাকে বিপুল খ্যাতি এনে দেয়।এই গবেষণার ফলে তিনি অত্যন্ত সম্মানীয় পদ-রয়্যাল সোসাইটির ফেলো নির্বাচিত হন।একই বছরে তার গবেষণা ‘ফিলসফিকাল ট্রান্সিকশন অফ দা রয়্যাল সোসাইটি’ গ্রন্থে প্রকাশিত হয় ।”অবজারভেশন অন দা মাইগ্রেশন অফ বার্ড” নামেও একটি গ্রন্থ তিনি রয়্যাল সোসাইটিতে পেশ করেছিলেন তার জীবনের শেষ বছরে এসে।

images 12

জেনারের লেখা বই।

 

 

এসবের বাইরেও জেনারের মাথায় একটা দুশ্চিন্তা সবসময়ই ঘুরপাক খেতো,সেটা হলো গুটিবসন্ত, বা স্মলপক্স।। তখনকার দিনে শতবছর ধরে টিকে থাকা এ রোগে মানুষের মৃত্যুহার ছিলো অনেক বেশি(এতটাই ভয়ংকর ছিলো রোগটা,যে গত শতাব্দীতেও প্রতি দশজনে তিনজনের মৃত্যু হতো!)।জার্মানিতে এ নিয়ে একটা মজার প্রবাদও চালু ছিলো, “অল্পলোকেই প্রেম ও বসন্তের হাত থেকে নিষ্কৃতি পেতে পারে!”
সেসময়ে ভ্যারিওলে‌শন নামক একটা থেরাপি পদ্ধতির প্রচলন ছিলো। গুটিবসন্ত আক্রান্ত ব্যক্তির শরীর থেকে শুকিয়ে যাওয়া মৃত চামড়া একজন সুস্থ ব্যক্তির গায়ে সামান্য পরিমাণে ঘষে দেয়া হতো। এতে সুস্থ ব্যক্তি অল্পমাত্রায় গুটিবসন্তে আক্রান্ত হতো, যা তার শরীর সহজেই কাটিয়ে উঠতে পারতো। তবে, সমস্যা টা হলো যেহেতু এখানে গুটিবসন্তের জীবাণুটিকেই শরীরে ঢোকানোর ব্যবস্থা করে দেয়া হচ্ছে, তাই অনেকের ক্ষেত্রেই দেখা যেতো কাঙ্খিত ফল তো আসতোই না, বরং বড়সড় গুটিবসন্তে আক্রান্ত হয়ে পড়তো তারা(এজন্য এই ব্যবস্থা কেমন নিরাপদ,তা দেখার জন্য বন্দী/এতিম বাচ্চাতে প্রথম দিকে ট্রায়াল দেয়া হতো!)।ভ্যারিওলেশনের বিরূপ প্রতিক্রিয়া নিয়ে কথাও হচ্ছিলো,কিন্তু বিকল্প জানা না থাকায় হালে তেমন জোর পাওয়া যাচ্ছিল না।

 

জর্জ হারউইক(George Harwicke) এর কাছে থাকার সময়ই জেনারকে একটা তথ্য বেশ আলোড়িত করতো।তিনি সে সময় অধিবাসীদের মুখে শুনতেন গ্রামের গোয়ালাদের গুটি বসন্ত হয় না বা হলেও তারা মারা যায় না।সেসময় গবাদিপশুর দেহে অনুরূপ একটি বসন্ত রোগ দেখা দিতো, যার নাম কাউপক্স(cow pox)।সেই কাউপক্সের জীবাণু যদি কোনো মানুষের শরীরে কোনোভাবে চলে আসতো, তবে খুব সামান্য একধরণের বসন্ত রোগ হতো ঐ ব্যক্তির, যা থেকে খুব দ্রুতই আরোগ্য লাভ করা যেতো। কোনো একভাবে নিশ্চয়ই তাদের শরীরে গুটিবসন্ত সৃষ্টিকারী জীবাণুর বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা তৈরি হয়েছে।তিনি ধারণা করেছিলেন এই দুটি রোগের জীবাণু হয়তো খুব কাছাকাছি ধরণের। একটি হয়তো মানুষের জন্য সামান্য জ্বর সৃষ্টিকারী,কিন্তু অপরটি প্রাণঘাতী।জেনারের বাড়িতে যিনি দুধ দিতে আসতেন, তার নাম ছিলো সারা(Sara nelms),যার হাতে ছিলো কাউপক্সের ক্ষত ।এবার জেনার চালালেন তার হাইপোথিসিসের (ভয়ানক!) এক্সপেরিমেন্টটি।সারার শরীর থেকে খানিকটা কাউপক্সের পুঁজ নিয়ে তিনি তার মালীর সুস্থ আট বছরের ছেলে জেমস ফিলিপের ত্বকে ঘষে দিলেন।দিনটা ছিলো ১৪ মে, ১৭৯৬।দেখা গেলো, বসন্তের কিছু উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর সে আবার সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠে ।প্রথম ডোজের কিছুদিন পরে আবার কিছু কাউপক্সের ক্ষত জেমসের দেহে দেয়া হলো। এবার অবশ্য তেমন কোন প্রতিক্রিয়াই হলো না,এবং দেখা গেলো জেমস গুটি বসন্তের আক্রমণ প্রতিরোধ করতে সক্ষম হচ্ছে।উচ্ছ্বসিত জেনার আরো পর্যালোচনা করে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হলেন যে তিনি যা করেছেন তা ভ্যারিওলেশন থেকে আলাদা কিছু এবং যা করে ভ্যারিওলেশন থেকেও আরো নিরাপদে মানুষকে বাঁচানো সম্ভব! তিনি নতুন এই পদ্ধতির নাম দিলেন ভ্যাকসিনেশন(vaccination)।আমরা জেনে আসলাম যে, তার এক্সপেরিমেন্টে গরুর পক্স থেকে সংগৃহীত উপাদান ব্যবহার হতো।গরুর ল্যাটিন নাম হচ্ছে Vacca, সেখান থেকেই Vaccination!

images 15

ফিলিপকে টিকা দিচ্ছেন জেনার।

 

এখন, আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতিতে আমরা ব্যাখ্যা করতে পারি ঠিক কি ঘটে ভ্যাকসিনেশনে।রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হলে বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাবলীকে নির্ভর করতে হয় মানবদেহের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উপর। মানবদেহের সবচেয়ে বিস্ময়কর একটি ব্যবস্থা হলো এর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। নির্দিষ্ট জীবাণু যা দিয়ে প্রতিনিয়ত আমরা রোগে আক্রান্ত হই–কোনোভাবে যদি এই জীবাণুগুলোর সাথে আমাদের রোগ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে পরিচয় করিয়ে দেয়া যায়, তবে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাটি চমৎকারভাবে সেই জীবাণু বা কাছকাছি চেহারার অন্য জীবাণুর বিরুদ্ধে কাজ করতে সক্ষম হবে।মানব ইতিহাসের প্রথম টিকা গুটিবসন্ত টিকা আবিষ্কারের সময়, ঠিক এই ধারণাটিই কাজে লাগিয়েছিলেন ডাক্তার এডওয়ার্ড জেনার ।

ভ্যাকসিন আসলে আর কিছুই না,

যে রোগের ভ্যাকসিন সেই রোগেরই মৃতপ্রায় বা মৃত জীবাণু অথবা জীবাণু-সদৃশ কিছু উপাদান,যাদের তেমন কোনো সক্রিয়তা থাকে না, তবে দেহের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ঐ রোগটাকে চিনিয়ে দেয়।জেনারের ধারণা অনেকাংশেই ঠিক ছিলো, যে, কাউপক্স আর স্মলপক্সের জীবাণু খানিকটা কাছাকাছি। তাই কাউপক্সের অল্প ভয়ংকর জীবাণুর বিরুদ্ধে দেহের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যে প্রতিরক্ষা নিয়েছিলো, তা সমানভাবেই কাজ করেছে স্মলপক্সের ক্ষেত্রে। এই ধারণাকে ব্যবহার করেই তৈরি করা হয়েছে অন্যান্য রোগের টিকাগুলো।

ভ্যাকসিন

যেভাবে কাজ করে ভ্যাক্সিন!

 

যাহোক,এদিকে জেনার সাহেব তো তার গবেষণা চালিয়ে যেতে থাকলেন। শুরুর দিকে রয়্যাল সোসাইটি তার গবেষণাপত্রগুলি গ্রহন করে নি । কিন্তু বিস্তর গবেষণা আর পরীক্ষা নিরীক্ষার পর তার ২৩টি কেস এর ফলাফল প্রকাশ করা হয়, যার মধ্যে একটি কেস ছিল তার ১১ বছরের ছেলে রবার্টের।

 

শেষ পর্যন্ত ভ্যাকসিনেসন পদ্ধতি স্বীকৃতি পায় ১৮০২ সালে।

এবং, উনি যেন গবেষনা চালিয়ে যেতে পারেন সে জন্য ১০,০০০ পাউন্ড অনুদানও দেয়া হয়। এই ১৮০২ সালের আগ পর্যন্ত কোনো আধুনিক যন্ত্র বা কেমিক্যাল নয়,জেনারের সম্পদ ছিল কেবলমাত্র ওনার চিন্তা শক্তি আর পর্যালোচনা করার অসাধারণ ক্ষমতা।১৮৪০ সালে ব্রিটিশ সরকার ভ্যারিওলেশন নিষিদ্ধ করে এবং বিনামূল্যে ভ্যাকসিনেসন পদ্ধতির সূচনা করে ।

800px Edward Jenner. Photograph of a sculpture by Giulio Monteverd Wellcome V0028722

রোম মিউজিয়ামে অবস্থিত নিজ সন্তানকে টিকাদানরত অবস্থায় এডওয়ার্ড জেনারের ভাষ্কর্য।

 

 

জেনারের এই সুমহান সাফল্য সমগ্র ইউরোপে ছড়িয়ে পরে এবং আমেরিকা, ফিলিপিন্স, মাকাও ও চীনে ফ্রাঞ্চকো জাভিয়ার ডি বাল্মিসের অধীনে বাল্মিস মিশনে হাজার হাজার লোককে বসন্তের টিকা দেয়া হয়।দিনে দিনে গুটিবসন্তের বিরুদ্ধে গড়ে তোলা হতে থাকে আরো উন্নত ধরনের টিকাপদ্ধতি। শুধু তা-ই নয়, মারণক্ষয়ী অন্যান্য ছোঁয়াচে রোগ পোলিও, হাম, যক্ষ্মা,ধনুষ্টংকার প্রভৃতির বিরুদ্ধেও টিকা আবিষ্কৃত হয়।গুটিবসন্তের গ্রাস থেকে বাঁচাতে মানুষকে টিকাদানের ফলে গুটিবসন্তের ভাইরাসটিই(নাম হলে ভ্যারিওলা!)

পৃথিবী থেকে নির্মূল হয়ে যায় একটাসময়।শেষবার এ রোগে আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছিলো ১৯৭৭ সালে।এটি ব্যাপক জনসচেনতার কারণে হলেও, ভ্যাকসিন ছিল এর প্রধানতম কারন।রোগ প্রতিরোধ বিদ্যার পরবর্তী আরও নানা আবিষ্কারের ভিত্তি জেনার তৈরি করে দিয়ে যান।Michael Specter,একজন বিশিষ্ট চিকিৎসক এবং বিজ্ঞানী,এ বিষয়ে বলছেন,

“Universal vaccination may well be the greatest success story in medical history.”

images 14

জেনারের ছবি খোদাই করা মুদ্রা!

 

১৮০২ সালে জেনার ‘অ্যামেরিকান একাডেমী অফ আর্টস অ্যান্ড সায়েন্স’ এবং ১৮০৬ সালে ‘রয়্যাল সুইডিশ একাডেমী অফ আর্টস অ্যান্ড সায়েন্স’ এর ফরেন অনারারি মেম্বার হিসেবে নির্বাচিত হন । ১৮০৩ সালে জেনার ‘জেনারিয়ান সোসাইটি’র সভাপতি নির্বাচিত হন, যেটির মূল উদ্দেশ্য ছিল স্মল পক্স ভ্যাকসিনকে সবার কাছে পৌঁছে দেয়া ।

১৮০৮ সালে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা নিয়ে প্রতিষ্ঠা করা হয় “ন্যাশনাল ভ্যাকসিন এস্টাব্লিসমেন্ট” ।যেটিরও মূল উদ্দেশ্য ছিলো ভ্যাকসিনের বিস্তার ঘটানো!জেনার এখানে ছিলেন পরিচালকের দায়িত্বে, পরে অবশ্য কতৃপক্ষের সাথে মনোমালিন্যে তিনি তার পদ ছেড়ে দেন।১৮২১ সালে জেনার রাজা চতুর্থ জর্জের প্রধান চিকিৎসক হিসেবে নিয়োগ পান, সাথে সাথে জন্মস্থান বার্কলের মেয়র ও ‘জাস্টিস অফ দি পিস’ এর পদেও অভিষিক্ত হন।

 

এডওয়ার্ড জেনারের নাম মানুষ আজও শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে প্রতিষেধক বিজ্ঞানের জনক হিসাবে।এটিও বলা হয়ে থাকে যে, তিনি অন্য যে কারো থেকে বেশি মানুষের প্রাণ রক্ষা করেছেন। জেনারের জীবনের একটা অসাধারণ ঘটনা আপনাদের জানাতে চাই, বৃটেন আর ফ্রান্সের মধ্যে তখন চলছিলো তুমুল রেষারেষি।

ফ্রান্সের অধিপতি তখন মহামতি নেপোলিয়ন বোনাপোর্ট।তিনি ভ্যাকসিনের আবিষ্কারের পর তার সেনাবাহিনীকে গুটিবসন্তের ভ্যাকসিন প্রদান করেন। সেই ভ্যাকসিনের আবিষ্কারক মিস্টার জেনার একবার দুজন বৃটিশ কয়েদির মুক্তি চেয়ে নেপোলিয়ন বরাবর একটি চিঠি লেখেন। তার পাঠানো চিঠির প্রতি সম্মান দেখিয়ে নেপোলিয়ন তার কারাগার থেকে ঐ দুজন বৃটিশ কয়েদিকে নিঃশর্ত মুক্তি প্রদান করে বলেন,
“বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী আবিষ্কারকের কথা ফেলে দেয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়। ”

IMG 20200322 084815

নেপোলিয়ন এবং জেনার।

 

 

জীবনের শেষদিকে এসে তিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হন।১৮২৩ সালের ২৩শে জানুয়ারি তিনি তার জীবনের শেষ রোগীটি দেখেন।পরদিন তার আবার স্ট্রোক হয়, সকালের ব্রেকফাস্টটাও তিনি করতে পারেননি।একই বছর,২৬শে জানুয়ারি, এই মহান বিজ্ঞানীর জীবনাবসান ঘটে।পারিবারিক জীবনে চার সন্তানের পিতা এডওয়ার্ড জেনার জীবনভর বাইবেলকে তার মূল ভিত্তি হিসেবে গণ্য করে এসেছেন।স্রষ্টার প্রতি তার অবিচল আস্থা ছিলো আমৃত্যু।মৃত্যুর কিছুদিন আগে বলা তার একটি কথা খুব বিখ্যাত হয়েছিল, যেটা বোধকরি আজকেও সমান প্রাসঙ্গিক,সেটা দিয়েই শেষ করবো আজকের লেখাটা–

“I am not surprised that men are not thankful to me; but I wonder that they are not grateful to God for the good which he has made me the instrument of conveying to my fellow-creatures …”

কৃতজ্ঞতা:
1.Britannica.com(https://www.britannica.com/biography/Edward-Jenner)
2.Story of Heisennerg:The first vaccine of the world(https://10minuteschool.com/blog/story-of-heisenberg-2/)

Anirban Maitra
Hey! This is Anirban,currently living in Kushtia,Bangladesh.'Anirban' means something inextinguishable,I'm quite hopeful to make it true.I'm A student,a never-stopped learner and a book-worm!I dream of a secular,altruistic and progressive Bangladesh!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here