• বই- নিয়ান
  • লেখক- মুহম্মদ জাফর ইকবাল
  • ধরন- সাইন্স ফিকশন

বইটি ২০১৯ সালে প্রকাশিত হয়। যারা নিয়মিত জাফর ইকবালের সাইন্স ফিকশন বইয়ের পাঠক, যারা তার কাছে থেকে সাইন্স ফিকশনের ভালমানের বই আশা করেন বা সারা বছর অপেক্ষা করে থাকেন, তারা হয়তো বা আশাহত হবেন এ বই পড়ে।কেননা বইটি সাইন্স ফিকশনের আদলে একটি ছোট কিশোর উপন্যাসের মত।বইয়ের শুরুর দিকে কিছুটা হলেও সাইন্স ফিকশনের ধাঁচ থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা বজায় থাকেনি।তবে কেউ যদি ভাল কাহিনী হিসেবে বইটি পড়ে দেখেন, তবে বলা যায় সুন্দর এক কাহিনী আছে এই বইটাতে।
গল্পের প্রধান দুই চরিত্রের মধ্যে আছেন ফসিল বিজ্ঞানী ড. রিয়াজ এবং তারডান পিটে মেয়ে মনিকা।যে কিনা মাত্র ষোল বছর বয়সের আগেই অর্জন করেছে ফোর্থ ডিগ্রি কারাটে ব্ল্যাকবেল্ট।স্কুলে লাগিয়ে রাখে একটার পর একটা গণ্ডগোল।একদিন এক সংসদ সদস্যের ছেলেকে পিটিয়ে তক্তা বানিয়ে ফেলেছিল, নাক ফাঁটিয়ে রক্ত বের করে দিয়েছিল।পরে তাকে হাসপাতালে নিতে হয়েছিল।এই ঘটনার জেরে তাকে স্কুল ছেড়ে দেয়ার প্রস্তুতি নিতে বলেছিলেন স্কুল প্রধান।

উপন্যাসের চরিত্র মনিকা এবং রিয়াজ ঘটনাক্রমে একটি ‘নিয়ানডারথাল’বাচ্চা খুঁজে পায় যেটি বরফে আটকা পড়েছিল দীর্ঘদিন।আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কাহিনী এগিয়ে যায়।

পুরো উপন্যাসটিকে মোটা দাগে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।প্রথম ভাগে লেখক মূল গল্পে ঢোকার জন্য ও মূল গল্পকে বিশ্বাসযোগ্য করার জন্য যা যা করা দরকার তা সেখানে করার চেষ্টা করেছেন এবং শেষ ভাগে বলেছেন মূল গল্প।তবে যত প্রস্তুতি নিয়ে প্রাক- কাহিনী বলে মূল গল্পে ঢুকেছেন সেই তুলনায় মূলগল্প বলা হয়নি তেমন।শুরু হয়েই যেন শেষ।মূলগল্পে উপন্যাস হওয়ার মতো কাহিনী হতে গিয়েও হয়নি।

ভ্রমণ পিপাসু এবং প্রকৃতির সৌন্দর্য পিপাসু একমন সেখানে ফুটে উঠেছে।লেখক পরতে পরতে যেন বোঝাতে চেয়েছেন সমাজের প্রচলিত জীবনের বাইরে খুব চমৎকার একটি জীবন আছে আমাদের, যেটিকে অনুসন্ধান করা হয়না অনেকের।বাবা- মেয়ের টুকরো টুকরো খুনসুটি যেন বাস্তব হয়ে ধরা দিয়েছে সেখানে।বিশেষ করে কয়েকটি হালকা হাস্য রস যেন একদম জীবন্ত।

কোন এক ভ্রমণের সময় পাহাড়ে হাইকিং করতে গিয়ে ‘নিয়ানডারথাল’ গ্রুপের এক শিশুকে খুঁজে পায় মনিকা।যারা মানুষ তথা হোমোসেপিয়ান্স গ্রুপের মানুষের হাতে ৪০ হাজার বছর আগেই পৃথিবী থেকে শেষ হয়ে গিয়েছিল।ল্যাবে নিয়ে সুস্থ করে তার নাম দেয়া হয় নিয়ান।
সেই নিয়ানের গায়ের রং ছিল ককেশিয়ানদের মত ধবধবে সাদা, মাথায় সোনালী চুল ঘাড় পর্যন্ত নেমে এসেছে।একটা পশুর চামড়া নিয়ানের কোমর থেকে ঝুলানো অবস্থায় ছিল।ওপরে কিছু নেই, খালিগা।সুঠাম পেশী বহুল দেহ।উঁচু কপাল এবং খাঁড়া নাক লম্বাটে মুখ এবং শক্ত চোয়াল।

মনিকা শিশুটিকে বাঁচানোর পর তাকে শ্বেতাঙ্গদের থেকে বাঁচিয়ে রাখার লড়াইয়ে নেমে যায়।বইয়ের শেষের দিকে সেই লড়াই ফুটে উঠে।পৃথিবীর মানুষের পাশাপাশি ‘নিয়ানডারথাল’ গ্রুপের মানুষও কি থাকবে কিনা সিদ্ধান্ত নেয়ার আগেই কালো চামড়ার প্রতি বিরূপ মনোভাবের মানুষের রোষানলে পরে নিয়ান।ওকে বাঁচাতে মনিকা পালাল নিয়ানেরই পরিচিত এক জঙ্গলে।
চেনা জায়গায় গিয়ে নিয়ান মনে মনে তার ভাষায় খুঁজে ফেরে তার বাবা মাকে।একটা সময় সে বুঝতে পারে এই পৃথিবী তার জন্য না, এই পৃথিবীতে সে টিকে থাকতে পারবেনা, তার প্রজাতিকে একসময় এই দুনিয়া থেকে বিতাড়িত হতে হয়েছিল।সে যখন বুঝতে পারে আজ থেকে ৪০ হাজার বছর আগে তার পরিবার শেষ হয়ে গিয়েছিল, তখন সে এই পৃথিবীতে টিকে বা বেঁচে থাকার ইচ্ছে হারিয়ে ফেলে।মনের ইচ্ছায় সাড়া দিয়ে তার শরীর যখন মৃত্যুর পথ যাত্রী হয় তখন কিশোরী মনিকা তার হাত ধরে।

মনিকা চায় নিয়ান পৃথিবীতে টিকে থাকুক আর নিয়ান চায় সে ফিরে যাক তার বাবা-মায়েরকাছে।শেষ পর্যন্ত নিয়ানের কী হয়েছিল? জানতে হলে পড়ে ফেলুন মুহাম্মদ জাফর ইকবালের ‘নিয়ান’।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here