• বই- প্রজেক্ট আকাশলীন
  • লেখক – মুহাম্মদ জাফর ইকবাল
  • ধরন- বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী
  • প্রকাশকাল- ফেব্রুয়ারী- ২০২০

জাফর ইকবালের বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর আসল যে ধাঁচ সেটা অনেক দিন পর এই বইয়ের মধ্যে খুজে পাওয়া গেছে। বইটা একদমই নতুন, এই বছর প্রকাশিত। আমার কাছে বইটা ওভারঅল ভালই লিখা। বইটাতে বিজ্ঞান সম্মত লেখার সাথে সাথে ছিল দেশের প্রতি ভালবাসা কিংবা পরিবারের প্রতি ভালবাসা ও ফুটে উঠেছিল।
বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী বললেও পড়ার সময় মনে হচ্ছিল যেন সত্য ঘটনা পড়ছি! কেনার আগে ভেবেছিলাম বইটা বিশেষ ভালো হবে না, আগের মতই একই প্যাটার্নের কাহিনী হবে। কিন্তু পড়ে বেশ ভালো লেগেছে। মনে হয়েছে আসলেই হয়ত এমন কিছু হয়ে যেতে পারে কয়েক বছর পর! বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে লেখা দেখে হয়ত আরও বেশি ভালো লেগেছে!

প্রফেসর ড. ইমতিয়াজ আমেরিকা থেকে বাংলাদেশে চলে এসেছিলেন এই দেশের ছেলে মেয়েদের নিয়ে কাজ করার জন্য। প্রাথমিক পর্যায়ে এই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটা মাঝারী মানের রকেট লঞ্জ করে সাড়া ফেলেন প্রফেসর ইমতিয়াজ। তারপরেই তার কাছে একটা প্রস্তাব আসে। একটা প্রতিযোগিতার অংশ নেবার জন্য। প্রতিযোগিতাটা খালি চোখে দেখতে সহজ ছিলনা। প্রতিযোগিতার লক্ষ্য ছিল যে একটা স্পেসশিপকে কমপক্ষে একশ কিলোমিটার উঁচু একটা কক্ষপথে বসাতে হবে এবং পৃথিবীতে আবার ফিরিয়ে নিয়ে আসতে হবে। তারজন্য পুরস্কার ছিল পঞ্চাশ মিলিয়ন ডলার। কিন্তু আজব এক শর্ত জুড়ে দেয়া ছিল, সেই স্পেসশিপে একজন জীবন্ত মহাকাশচারীকে পাঠাতে হবে এবং তাকে ফিরিয়ে আনতে হবে। যা অনেকটা অসম্ভবই বলা চলে। শেষ পর্যন্ত প্রতিযোগিতা থেকে এই শর্ত বাদ গিয়েছিল। কিন্তু এই শর্ত বাদ নিয়েই ঘটে যায় অনেক কাহিনী। সেটা জানতেই পড়তে হবে এই বই।

প্রফেসর ইমতিয়াজের বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ পাগল কিছু আন্ডার গ্রাজুয়েট ছাত্রছাত্রী আর দেশের আরও কিছু মেধাবীদের নিয়ে এই কাজ শুরু হয়েছিল, কিন্তু সেই গ্রুপে ছিলো একজন মেয়ে। মেয়ের নাম মিম। আপাত চোখে যাকে কোনদিন মনে হয়নি সে কোন কাজের। কিন্তু শুরু থেকেই মেয়েটার মাঝে একটা জিদ ছিল সে স্পেসশিপের জীবন্ত মহাকাশচারী হবে, বিপত্তি ছিল এখানেই। কারন মেয়েটি ছিল একজন বাইপোলার রোগী!!!!

বাইপোলার এক ধরনের মানসিক রোগ, মানে দ্বিমুখী আচরন। বাই শব্দের অর্থ দুই আর পোলার অর্থ মাথা বা দিক। এই রোগের দুইটি দিক। একদিকে থাকে depression, অন্যদিকে ম্যানিক condition. অর্থাৎ একদিকে যেমন কাজ করে বিষণ্ণতা , আরেকদিকে কাজ করে অতিরিক্ত উচ্ছ্বাস। এই ধরনের একজনের পক্ষে কি সম্ভব ছিল মহাকাশচারী হবার?
এই বইয়ের গুরুত্বপূর্ণ দিক-

ড. ইমতিয়াজ, তার স্বপ্ন রকেট বানানো। এদিকে এক বিশেষ কারণে সে বিদেশের জেট প্রপালশন ল্যাবের চাকরি ছেড়ে চলে আসেন দেশে, যোগ দেন এক বিশেষ রকেট উড়ানো বিষয়ক কম্পিটিশিনে।

মীম, টিনেজ এই মেয়ের ছোটবেলা থেকেই ইচ্ছে নভোচারী হওয়া। তাই সে ছোটবেলা থেকে এ বিষয়ে কঠিন অধ্যাবসায় শুরু করে। এ কাজের মাধ্যমেই সে যুক্ত হয় ড. ইমতিয়াজ এর রকেট উড়ানো বিষয়ক প্রজেক্টে ।

কিন্তু এই কম্পিটিশন শুরু হবার পর থেকেই নানা জায়গা থেকে আসতে থাকে বাধা-বিপত্তি। এখন এইসব বাধা-বিপত্তি ছাপিয়ে ড. ইমতিয়াজ কি পারবে রকেট উড়াতে ? মীম কি পারবে মহাকাশচারী হতে ? তা জানতে হলে পড়তে হবে জনপ্রিয় লেখক মুহম্মদ জাফর ইকবাল এর বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী “প্রজেক্ট আকাশলীন”।

“প্রজেক্ট আকাশলীন ” মূলত বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী হলেও খুব বেশি সাই ফাই এলিমেন্ট ব্যবহার করা হয়নি। বিজ্ঞানের যে সমস্ত টার্ম ব্যবহার করা হয়েছে তার বেশিরভাগই মনে হয়েছে বাস্তবসম্পন্ন। (রকেট সাইন্স সম্পর্কে খুব বেশি জ্ঞান না থাকায় বাস্তবেও সব টার্মগুলো আছে নাকি তা বলতে পারছি না।) লেখার ভিতরে দেশের প্রতিও এক মানবিক দিক তুলে ধরা হয়েছে।

“প্রজেক্ট আকাশলীন” এর চরিত্রায়ণের ভিতরে বেশিরভাগই টিপিক্যাল, এর ভিতরে মীম চরিত্রকে যা একটু ভালো লেগেছে।রকেট চালনা এবং এ সম্পৰ্কীয় বর্ণনা একটু কঠিন লেগেছে। ইম্প্রেসিভ সূচনা হলেও গল্পের শেষটা বেশ প্রেডিক্টেবল।কারিগরি দিক থেকে বইয়ের কাগজের মান, বাঁধাই ভালো ছিল। বইয়ের দাম লেখক মুহম্মদ জাফর ইকবাল এর ব্র্যান্ড ভ্যালু অনুসারে দেওয়া হয়েছে। প্রচ্ছদশিল্পী আরাফাত করিমের করা প্রচ্ছদ এবং ভিতরের ইলাস্ট্রেশন দুটোই ভালো লেগেছে।

এক কথায়, শেষ ক বছরের ভিতরে লেখক মুহম্মদ জাফর ইকবাল এর লেখা বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী গুলোর ভিতরে প্রজেক্ট আকাশলীন একটু অন্য ধরনের লেগেছে।এবার কিছুটা হলেও ভিন্ন দেয়ার চেষ্টা করেছেন তিনি। যারা নিয়মিত লেখক মুহম্মদ জাফর ইকবাল এর বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী পড়েন এবং শেষ কয়েক বছরের লেখা পড়ে আশাহত তারা পড়ে দেখতে পারেন বইটি। আর যাদের লেখক মুহম্মদ জাফর ইকবাল এর বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী প্রচুর ভালো লাগে তাদের এ বইটি মিস দেয়া কোনভাবেই উচিত হবে না।

2 COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here